বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন
হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি :
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগের মধ্যে নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন জটিলতায় খাদিজা আক্তার (১০) নামে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গত ২০ জুলাই ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত খাদিজা উপজেলার দেশগাঁও আদর্শ একাডেমির চতুর্থ শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী এবং দেশগাঁও পশ্চিম আটিয়া বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মন্টু মিয়ার মেয়ে।
পরিবারের স্বজনদের অভিযোগ, অসুস্থ হওয়ার পর গত ১২ জুলাই খাদিজাকে হাজীগঞ্জ হলি কেয়ার ডিজিটাল মেডিকেল সেন্টার অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসক ডা. মিনহাজুর রহমানের কাছে নেওয়া হয়। এ সময় চিকিৎসক খাদিজার টাইফয়েডের জ্বর হয়েছে বলে চিকিৎসা দেন। তবে স্বজনদের দাবি, তখন ডেঙ্গু বা নিউমোনিয়াজনিত কোনো সমস্যা শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়নি।
স্বজনরা আরও জানান, চিকিৎসা নেওয়ার পরও খাদিজার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হয়ে ধীরে ধীরে অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। গত ১৯ জুলাই শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। পরে ২০ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুসনদে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, খাদিজার মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘কার্ডিও-রেসপিরেটরি ফেইলিউর ডিউ টু নিউমোনিয়া, সাসপেক্টেড এআরডিএস (ARDS), থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া ও সেপটিসেমিয়া’ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ নিউমোনিয়ার জটিলতার সঙ্গে হৃদ্যন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্রিয়া ব্যর্থতা, রক্তে প্লেটলেট কমে যাওয়া এবং গুরুতর সংক্রমণজনিত জটিলতার কথা মৃত্যুসনদে উল্লেখ রয়েছে।
স্বজনদের দাবি, চিকিৎসক মিনহাজুর রহমান এক সপ্তাহ পর আবার দেখানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন এবং টাইফয়েডের জ্বর ভালো হয়ে যাবে বলে জানিয়েছিলেন। তাদের অভিযোগ, সঠিক সময়ে সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা না পাওয়ায় খাদিজার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, স্বজনদের দাবি, খাদিজার চিকিৎসার প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রথমে টাইফয়েডের কথা বলা হলেও পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং নিউমোনিয়া ও গুরুতর সংক্রমণজনিত জটিলতা দেখা দেয় বলে তারা জানান।
পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে খাদিজার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে।
তবে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন চিকিৎসক ডা. মিনহাজুর রহমান। তিনি বলেন, রোগী তার কাছে আসার পর প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রিপোর্টের ভিত্তিতে রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তার পক্ষ থেকে কোনো ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহমেদ তানভীর বলেন, নিহত শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। ভুল চিকিৎসার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খাদিজার অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশগাঁও আদর্শ একাডেমির শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।