বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ন
মোঃ সুজন মোল্লা,বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি॥ বানারীপাড়ায় আওয়ামীলীগ সরকারের ৯ বছরে পৌর শহর সহ উপজেলার ৮ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ব্যপক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়িত হলেও অজ্ঞাত কারণে মরণ ফাঁদে পরিণত হওয়া বাইশারী ইউনিয়নের ডুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাইশারী বাজার ভায়া ইলুহার ্ইউনিয়নের গৌরাঙ্গ বাজার রাস্তাটি সংস্কারে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ডুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাইশারী বাজার ভায়া ইলুহার ্ইউনিয়নের গৌরাঙ্গ বাজার পর্যন্ত রাস্তাটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।ইটের তৈরী ওই রাস্তা দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার না করায় রাস্তার মাঝে মাঝে অসংখ্য গভীর গর্তের সৃষ্টি হওয়া সহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তার একাংশ ভেঙ্গে ও দেবে গিয়ে চলাচল অনুপযোগী হয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এছাড়া রাস্তার পাশে ঝোপঝাড় সৃষ্টি হয়ে ভূতুরে রাস্তায় রূপ নিয়েছে।ফলে বাইশারী ও ইলুহার ইউনিয়নের ডুমুরিয়া ও ইলুহার গ্রামবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।বিশেষ করে প্রসুতি রোগী,বৃদ্ধজন ও স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওই রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে অন্তহীণ ভোগান্তি পোহাতে হয়।বর্ষা মৌসুমে এ ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করে। এ রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই এলাকাবাসীকে দূর্ঘটনার শিকার হতে হয়।রাস্তার একাংশ ভেঙ্গে ও দেবে যাওয়া ও অসংখ্য গভীর গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় সাইকেল ও মটরসাইকেল ছাড়া অন্য কোন যান-বাহন চলাচল করতে পারেনা।বর্ষাকালে সাইকেল ও মটরসাইকেলও দূর্ঘটনায় পতিত হয়।রাস্তা বেহাল হওয়ায় চালাতে না পাড়ায় অনেক স্থানে সাইকেল ও মটরসাইকেল আরোহীকে গাড়ি ঠেলে নিয়ে যেতে হয়। ইলুহার গ্রামের সমাজসেবী প্রকৌশলী অনিমেষ সরকার নয়ন জনস্বার্থে ওই রাস্তাটি পাকা করণের দাবী জানিয়ে স্থাণীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস এবং উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ গোলাম ফারুকের কাছে সম্প্রতি লিখিত আবেদন করেছেন।এ প্রসঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আলহাজ¦ গোলাম ফারুক জানান এলাকাবাসীর জনদূর্ভোগের কথা বিবেচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বেই জনগুরুত্বপূর্ণ ওই রাস্তাটি পাকা করণের পরিকল্পনা নিয়ে টেন্ডার আহবানের প্রক্রিয়া চলছে।
বানারীপাড়ায় এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে ৫ শিক্ষার্থীর খাতা নেওয়ায় শিক্ষকরা অবরুদ্ধ!
মোঃ সুজন মোল্লা,বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি॥
বানারীপাড়ায় এইচএসসি ইংরেজী দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে এক পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষার হলে গেঞ্জি পড়ে আসা এবং শার্টের বোতাম খুলে রাখার অজুহাতে ৪ পরীক্ষার্থীর খাতা নিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষা শেষে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করার উদ্দেশ্যে শিক্ষকদের পথরোধ করে ঘেরাও রাখে। এ ঘটনায় ৬ পরীক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। জানা গেছে উপজেলার চাখার ফজলুল হক ইনুিষ্টটিউশন স্কুলে এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে শনিবার ইংরেজী দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা শুরুর ২০-২৫ মিনিট পরে সেখানে কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্বরত বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক বিশ^বিদ্যালয় কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক আঃ সবুর পরীক্ষার্থী রিমন হাওলাদারের কাছে নকল পেয়ে তার খাতা নিয়ে যান। এসময় তিনি ওই শিক্ষার্থীকে বহিস্কার না করে প্রশ্ন ফাঁসের আশঙ্কায় দুই ঘন্টা পরে বের হয়ে যাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়ে কক্ষে আটকে রাখেন। এদিকে একই দিন কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা ইউএনও’র প্রতিনিধি উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.বখতিয়ার উদ্দিন পরীক্ষার হলে গেঞ্জি পড়া ও শার্টের বোতাম খুলে রাখার ঠুনকো অজুহাত তুলে শিক্ষকদের দিয়ে ৪ পরীক্ষার্থীর খাতা টেনে নেয়। এর আগের তিন পরীক্ষায়ও কেন্দ্রের দায়িত্বরত ওই কর্মকর্তা পরীক্ষার হলে টি শাটর্ (গেঞ্জি) পড়ে আসা ও শার্টের বোতাম খুলে রাখা সহ বিভিন্ন ঠুনকো অভিযোগ তুলে বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থীর খাতা টেনে নেয়। এসব কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে শনিবার দুপুর ১টার পরে পরীক্ষা শেষে বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক বিশ^বিদ্যালয় কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক আঃ সবুর,ফিন্যান্স ব্যাংকিং বিভাগের প্রভাষক লিটন রায়,ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক শারমিন সুলতানা,সমাজকল্যাণ বিভাগের প্রভাষক শামসুল হক,ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক খান মোঃ আল-আমিন,উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপনন বিভাগের প্রভাষক অসিত হালাদার,ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক চন্দ্র শেখর মিস্ত্রি,বানারীপাড়া ডিগ্রী কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক গোলাম মোর্শেদ ও ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক নূর আহম্মেদ সহ শিক্ষকরা কেন্দ্র থেকে নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার সময় চাখার বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন ব্রিজের ওপর পৌঁছলে অর্ধ শতাধিক পরীক্ষার্থী লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ঘেরাও করে অকথ্য ভাষা গালাগাল করে হামলার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক চাখার পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ও চাখার সরকারী ফজলুল হক কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম সফিউর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের রোষানল থেকে শিক্ষকদের উদ্ধার করেন। পুলিশ এসময় সেখান থেকে পরীক্ষার্থী রিমন হাওলাদার,অনিক,তাওহীদ মোল্লা,সাগর সিকদার,মিরাজ ও সৈয়দ যুবায়েরকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিপুল চন্দ্র দাস,থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ও চাখার ইউপি চেয়ারম্যান খিজির সরদার ঘটনাস্থলে ছুঁটে যান। তারা শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠক করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত শিক্ষা জীবনের কথা বিবেচনা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে রবিবার সকাল ১০টায় তাদের অভিভাবকদের ডেকে সন্তানদের বিচারের ভার তাদের হাতে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। এসময় ওই ৬ শিক্ষার্থীকে দিয়ে শিক্ষকদের পা ধরে ক্ষমাও চাওয়ানো হয়। পরে তাদের প্রবেশপত্র আটকে রেখে রবিবার অভিভাবকদের নিয়ে এসে বিচারের পরে অভিভাবকদের হাতে প্রবেশপত্র ফেরত দেওয়ার কথা বলে আটককৃত শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
বানারীপাড়ায় এক ইলিশ ৮ হাজার !
মোঃ সুজন মোল্লা,বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি॥
বানারীপাড়ায় ১লা বৈশাখকে সামনে রেখে অগ্নি মূল্যে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার সকালে বানারীপাড়া বন্দর বাজারে ১ কেজি সাড়ে ৮ শত গ্রামের একটি ইলিশ মাছ ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।বন্দর বাজারে বৃহৎ আকারের ওই ইলিশ মাছটি দেখতে উৎসুক ক্রেতা ভিড় জমান।মাছটি দেখে ভোজন রসিকদের জিভে জল এলেও অগ্নি মূল্যে কেনার সাধ্য না থাকায় শুধু চোখের দেখা দেখে তাদের অন্তর জুড়াতে হয়েছে।বন্দর বাজারের মৎস্য আড়ৎদার সুধীর রঞ্জন জানান ১ কেজি সাড়ে ৮ শত গ্রামের ওই ইলিশ মাছটি ৮ হাজার টাকায় অপর মৎস্য ব্যবসায়ী সত্যকে দিয়ে ঢাকায় বানারীপাড়া পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি ইমরান হোসেন ক্রয় করান।পরে ওই ইলিশ মাছটি ঢাকায় ইমরানের বাসায় পাঠানো হয়।শনিবার বন্দর বাজারে ঘুরে দেখা গেছে ৭/৮ শত গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ ১২/১৩ শত টাকা কেজি দরে ও এক কেজি ওজনের ইলিশ ২৫শত-তিন হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।অথচ কয়েকদিন পূর্বেও এসব ইলিশের বাজার মূল্য বর্তমান মূল্যের অর্ধেকেরও কম ছিলো।এদিকে অভিযোগ রয়েছে স্থাণীয় মৎস্য আড়ৎদাররা অধিক মুনফার লোভে বানারীপাড়ার সন্ধ্যা ও এর শাখা নদীতে ধরা পড়া বড় আকারের ইলিশ মাছ গুলো কাক ডাকা ভোরে সবার অলক্ষে বরিশাল ও ঢাকায় চালান করে দেন।ছোট আকারের সামান্য কিছু ইলিশ মাছ বন্দর বাজারে বিক্রি হলেও তা অগ্নি মূল্যে ক্রয় করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।