বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন
ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী কালীবাড়ী হাটে গত বছরের তুলনায় চামড়ার আমদানি অনেকাংশে কম। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কেনা-বেচা সম্পন্ন হয়েছে। হাটটি সারাদেশের মধ্যে অন্যতম। প্রতি বছরের ন্যায় সপ্তাহের প্রতি বুধবার ভোরে চামড়ার হাট বসে আসছে।
ঈদ পরবর্তী ২৯ আগস্ট প্রথম বুধবার হাটটি বসে। ঈদুল আযহা উপলক্ষে চামড়া কিনতে সরাসরি ঢাকার বিভিন্ন ট্যানারি ও চামড়া শিল্পের মালিকসহ উত্তরাঞ্চলের গাইবান্ধা, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, পাটগ্রাম, লালমনিহাট, বগুড়া, রংপুর, কুড়িগ্রাম, জলঢাকা, নিলফামারী, নাটোর ও রংপুরের তারাগঞ্জ ছাড়াও এ অঞ্চলের ছোট-বড় ক্রেতা-বিক্রেতা, এজেন্ট, প্রতিনিধি, মহাজন ও ফড়িয়াসহ মৌসুমী ক্রেতাদের পদচারণায় হাটটি ব্যবসায়ীদের পদচরানায় মুখরিত হয়ে উঠে।
গত মঙ্গলবার দুপুর হতে শুরু করে বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত চামড়া কেনা-বেচা হয়। কিন্তু চামড়ার দাম কম হওয়ায় মৌসুমী ও ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
গত বছরের তুলনায় পশুর ক্রয় মূল্য ছিল সন্তোষজনক। কোরবানীও হয়েছে প্রচুর। চামড়ার প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে সম্পৃক্তরা জানায়, বিগত বছরে লবণের বস্তার মূল্য ছিল বেশি। এবার একই পরিমাণ লবণের বস্তার দাম ৭’শ ৫০ থেকে ৯’শ ৫০ টাকা। গরু ও মহিষের একটি চামড়া প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাত করতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২’শ ৫০ টাকা, খাসি ও ছাগলের প্রতিটি চামড়ায় ব্যয় হচ্ছে ৩০ টাকা।
গত বছরের তুলনায় এবার প্রথম বুধবার হাটটিতে ক্রেতার সংখ্যা কম লক্ষ্য করা গেছে। তাদের মধ্যে সরাসরি ঢাকা থেকে বিএলসি ও আরকে লেদার ছাড়াও বিভিন্ন ট্যানারী শিল্পের প্রতিনিধিরা চামড়া ক্রয় করেন।
এছাড়া মিনু মন্ডল, কোরবান, ফুল মিয়া, মজনু, নান্নু, ছালাম, সুমন, জলিল, আব্দুর রশিদ, দুলাল ও আমিনুলসহ স্থানীয় ভাবে গড়ে ওঠা ছোট-বড় চামড়ার আড়ৎদারাও হাটে চামড়া কিনেন।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের চামড়ার মান উন্নত। কিন্তু সরকারি ভাবে এর মূল্য নির্ধারণ এবং সুষ্ঠু নীতিমালা না থাকায় এ খাতটি বরাবরই অবহেলিত। আন্তজার্তিক বাজারের সাথে সমন্বয় রেখে চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে থাকেন বাংলাদেশ ট্যানারী এসোসিয়েশন (বিটিএ)।
এবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঢাকার বাহিরে লবনযুক্ত গরু’র চামড়া প্রতি বর্গফুটের মূল্য ৩৫ থেকে ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। খাসি ও ভেড়ার চামড়া নির্ধারণ করেছে প্রতি বর্গফুট ১৫ থেকে ২০ টাকা। প্রতি বছর দাম বেধে দেয়া হলেও ক্রেতা বিক্রেতারা মূলতঃ তার চেয়েও বেশি দরে চামড়া ক্রয়-বিক্রয় করে থাকেন। নানা সশংয়ে ভূক্তভোগী মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা গরু’র চামড়া প্রতি বর্গফুট ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত ক্রয়-বিক্রয় করছেন।
সরেজিমন জানা যায়, প্রতি পিস গরু চামড়া গড়ে ৪’শ থেকে ১২’শ টাকা, মহিষ ৩’শ থেকে ৫’শ টাকা, খাসি ৩০ থেকে ১’শ ২০ টাকা, ছাগল ২০ থেকে ৫০ টাকা ও ভেড়া ৩০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেচা-কেনা হয়েছে। উপজেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আলতাব উদ্দিন মোল্লা জানান, এবার হাটটিতে চামড়ার আমদানি কম। পাশাপাশি ক্রেতার সংখ্যাও কম। তিনি বলেন চামড়ার কটেজ পাটিরা বিগত বছরের পাওনা সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে করেননি। গতকাল বুধবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাটটিতে সর্বশেষ কেনা-বেচা চলছিল। ব্যবসায়ীদের ধারণা চামড়ার বর্তমান বাজার দর অব্যাহত থাকলে চামড়া পাঁচারের সম্ভাবনা রয়েছে। ছবি