বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন
ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনার ভূমির অজান্তে উপজেলার পবনাপুর,বেতকাপা, মনোহরপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের খাস খতিয়ানভুক্ত জমিকে ঘিরে প্রস্তাবিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে সাইনবোর্ড স্থাপনকারী কে আবু তাহের খন্দকার নব।
আবু তাহের খন্দকার নব পবনাপুর ইউনিয়নের বালাবামুনিয়া গ্রামের মৃত তসলিম উদ্দিন খন্দকার ছেলে। সে দীর্ঘদিন থেকে নানা মুখী বিভ্রান্তি মুলক কাজের সাথে জড়িত কিছুদিন আগেও সে অত্র এলাকায় মেলার অনুমোদন নিয়ে জুয়া যাত্রা চালাতো। বাংলাদেশ সচিবলায়ের কর্মচারি পরিচয়ে বিভিন্ন কাজ করে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের নিকট টাকা পয়সা নেওয়া যার মুলকর্ম। গত ২০০২ সালে পবনা পুর, মনোহরপুর ও হরিনাথপুর, ইউনিয়নকে নিয়ে নতুন একটি উপজেলা সৃষ্টি করতে এ অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কাগজপত্রাদি ঠিক করার কথা বলে অর্থ উত্তোলন করে।
নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে ৫ শতক জায়গায় ফকিরহাট মহিলা কলেজ স্থাপন করে এ কলেজের অধ্যক্ষ, প্রভাষক,কর্মচারী নিয়োগে নিয়োগ ব্যানিজ্য করে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় থেকে। এ কলেজের অফিস সহকারী হিসাবে নিয়োগ প্রদানের জন্য গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের মেঘারচর গ্রামের মৃত রহিম উদ্দিনের ছেলে নুরুল ইসলামের নিকট গত ২০০০ সালে ৬০ হাজার টাকা গ্রহন করে নিয়োগপত্র প্রদান করলে আজ পর্যন্ত তাকে অত্র কলেজে যোগদান করায় নি আবু তাহের খন্দকার নব।
সে হোসেনপুর ইউনিয়নের আহম্মদ কাজীর ছেলে মধু মিয়াকে কাজী নিয়োগের জন্য অর্থ হাতিয়ে নেয় এ অর্থ উত্তোলনের বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ প্রদানের পর সামান্য কিছু অর্থ ফেরত প্রদান করে আবু তাহের নব।
ফকিরহাট এলাকায় নিজের কোন জমি জমা না থাকলেও ঘেগির ব্রিজ নামক স্থানে ২৫০ শয্যা য় বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রস্তাবিত হিসাবে সাইন বোর্ড স্থাপন করে কর্মকর্তা কর্মচারি নিয়োগ বানিজ্য অব্যহত রেখেছে। এছাড়াও কোন অবকাঠামো না রেখেও ফকিরহাট এলাকায় সরকারি উদ্যোগে শিল্পাঞ্চল (ইপিজেড) গড়ে তোলার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের রপ্তানি -২ অধিশাখা বাংলাদেশ সচিবলায় ঢাকার স্মারক নং ২৬.০০. ০০০০.১০১. ১৪.০৩২.১৪-১৮৫(১) পত্রে ফকিরহাট গার্মেন্টস্ ফাক্টরী প্রস্তাবিত আবেদন করে আবু তাহের খন্দকার নব ‘র ছেলে মিজানুর রহমান পল্বব। এ সংক্রান্ত ইপিজেড করতে আলাদা একটি সাইন বোর্ড স্থাপন করে।
এছাড়াও বেতকাপা ইউনিয়নের খাস খতিয়ান ভুক্ত জমি নান্দিশহর বিলে বিমানবন্দর প্রস্তাবিত সাইনবোর্ড স্থাপন সহ নানা প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানের নামে সাইনবোর্ড স্থাপন করে বিশাল আকারে নিয়োগ ব্যানিজ্যের পায়তারা অব্যহত রেখেছেন আবু তাহের খন্দকার নবগং।
এ বিষয়ে সাইন বোর্ড স্থাপনকারী আবু তাহের খন্দকার নব সহিত কথা বললে সে জানায়, মহিলা কলেজ স্থাপনে নুরুল ইসলাম কে নিয়োগ প্রদান করা হলেও তিনি যোগদান করেনি।মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণে জমি আছে ১৪ শতক আরো জমি নেওয়ার আলাপ আলোচনা চলছে। ইপিজেড ও গামেন্টস্ ফাক্টরী গড়ে তুলতে জমি খোঁজা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নামে কাউকে নিয়োগের কথা বলে কোন প্রকার টাকা পয়সা নেওয়ার বিষয়টি গুজব।উপজেলা বাস্তবায়নের বিষয়টি হাইকোর্টে মামলা চলমান আছে। কাজী নিয়োগে মধু মিয়ার সহিত দ্বন্দের অবসান হয়েছে। সে আরো জানায়, বাংলাদেশ সচিবালয়ে গৃহ ও গণপুর্ত বিভাগে ষ্টোনো হিসাবে কর্মরত আছি। আমি নিজ এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছি তবে এখনো প্রস্তাবিত এসব প্রতিষ্ঠান দার করাতে পারিনি। ফকিরহাট বে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল স্থাপনে স্থানীয় এমপি ডাঃ ইউনুস আলী সরকারে ডি ও লেটার সহ স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের চিকিৎসা শাখায় আবেদন দেওয়া আছে অনুমোদন পেলে নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।
যত্রতত্র খাস জমিকে ঘিরে বিভিন্ন প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানের নামে জৈনক ব্যক্তি আবু তাহের খন্দকার নব কর্তৃক সাইন বোর্ড স্থাপনের এবিষয়ে জানতে চাইলে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেজবাউল হোসেন ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন জানান,এ বিষয়ে তাদের জানা নেই যদি কেউ এরকম কাজে লিপ্ত থাকে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।