বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের একটি খবরে প্রকাশিত হয়েছে, নাইজেরিয়ান এক ব্যবসায়ী নাম আলহাজি আবাদান তার সঙ্গে ওই কনের বিয়ে হয়। ঘরোয়া পরিবেশে বিয়ের পর কনেকে নিজ দেশে নিয়েও গেছেন নাইজেরিয়ান ওই বর।
এদিকে, ঘটনাটি ঘটার পর ভারতীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। খবরে আরো জানা গেছে, ব্যবসায়ীক সূত্রে ভারতের ওই রাজ্যে আসা-যাওয়া ছিল নাইজেরিয়ান ব্যক্তিটির। এভাবে কর্নাটকের গুলবার্গার জামির আহমেদ সৌতের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে আবাদান নামের ৬০ বছরের ওই ব্যবসায়ীর।
পরে সম্পর্ক আরো বাড়তে থাকলে এক পর্যায়ে মাহমুদ আলীর ছোট কন্যা কানিস ফাতিমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন আবাদান। সম্পদশালী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়ে কোন ধরণের লোভ সামলাতে পারেননি মেয়ের বাবাও। কোনো রকম কালক্ষেপণ না করে রাজি হয়ে যান জামির আহমেদ। এরপর সকল পরিবার ও প্রতিবেশীদের অনেককে না জানিয়ে ঘরোয়া পরিবেশে মেয়ের সঙ্গে ওই বৃদ্ধের বিয়ে দেন।
এদিকে, এ বিয়ে নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে, কর্নাটকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকেই। এ বিষয়ে নাতাশা চৌহান নামে এক নারী লিখেছেন, এটি বাবা মায়ের পক্ষ থেকে মেয়ের প্রতি পুরো অনৈতিক কাজ। এ ঘটনাকে কোন ভাবেই বিবাহ বলা যায় না। আদতে মেয়েটিকে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।
ভারতে বাল্যবিয়ের হার বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। দেশটিতে প্রায় ৪৭ ভাগ মেয়ের বিয়ে হয় বয়স ১৮ বছর হওয়ার আগেই। বিহারে এ হার ৬৯ ভাগ পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে। ‘গার্লস নট ব্রাইড’ নামে একটি সংগঠনের তথ্য থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফুটে উঠেছে।
তবে, সেখানে বেশিরভাগ বিয়ে হয় ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের মেয়েদের ক্ষেত্রে। ১৫ বছর বয়সী মেয়েদের বিয়ের ঘটনাও খুব বেশি হয় না। বর্তমানেও ভারতের অনেক সম্প্রদায় মেয়েদের অর্থনৈতিক বোঝা মনে করেন। তাই দ্রুত কন্যাদেরকে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে থাকেন দেশটির বহু বাবা-মা।