বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

যুবকের পেন্টের ভেতর অজগর সাপ

পাচার চক্রের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অপরদিকে, পুলিশও তাদের ধরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। একটি পাচার চক্র একবার যে পদ্ধতিতে তার পাচার কর্ম সাধন করে দ্বিতীয়বার কিন্তু সে একি পদ্ধতি আর ব্যবহার করে না তারা। ফলে এই ধরণের পাচার চক্রকে ধরতে বেশ বেগ পেতে হয় পুলিশের।

তারপরেও পুলিশ নাছোড়বান্দা। তারা ভিন্ন ভিন্ন স্টাইলে পাচার কাজ সম্পন্ন করে আর পুলিশও ওই সব স্টাইল অনায়াসে ধরে ফেলে। এইভাবে চলতে থাকে নিত্যদিন পুলিশের পাচারকারী সদস্যদের ধর পাকড়ার কর্মসূচি।

মূলত এই পাচারকারী দল পৃথিবীর প্রত্যেকটি অঞ্চলে বিদ্যামান। শুধু বাংলাদেশ নয় উন্নয়নশীল সব দেশে এই ধরণের সদস্যদের আনাগোনা বেশ। প্রশ্ন আসতে পারে এই সব পাচার কারী কারা? পৃথিবীর এক দেশ থেকে অন্য দেশে কিছু অসাধু চক্র অবৈধ মালামাল নিয়ে প্রবেশ করে, এরপর সেদেশে ওই অবৈধ পণ্য চড়া দামে তারা বিক্রি করে। মূলত আমার এই লেখায় তাদের আমার পাচারকারী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করবো।

যাইহোক আসল কথায় আসি। এই ধরণের পাচারকারীর গল্প কেন করছি। ঘটনা হলো কদিন আগে ইসরায়েলগামী একটি বিমান ধরার জন্য এক যুবক অনেকক্ষণ ধরে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। রুটিন তল্লাশির সময়ে নিরাপত্তারক্ষীরা লক্ষ্য করেন ওই যুবকের প্যান্টের বেশ কিছুটা অংশ ফোলা রয়েছে এবং ভিতর থেকে শব্দ আসছে। এরপরেই ওই যুবককে তল্লাশি করে বিমান বন্দরের কর্তব্যরত পুলিশ।

তারা সন্দেহ হয়, বহু সময় ধরে তারা লক্ষ্য করছিলেন ওই যুবকের প্যান্টের বেশ কিছুটা অংশ ফোলা রয়েছে এবং ভিতর থেকে শব্দ আসছে। এরপরেই ওই যুবককে তল্লাশি করে পুলিশ। তখনই চোখ কপালে উঠে যায় কর্তব্যরত পুলিশের। ঘটনাটি জার্মানির বার্লিন বিমানবন্দরের। সেখানে এই ধরণের চক্রের মুখোমুখি হয় পুলিশ।

পরে তল্লাশির সময়ে ওই যুবকের প্যান্টের ভিতর থেকে ৪০ সেমি দীর্ঘ একটি অজগর উদ্ধার করে তারা। প্যান্টের ভিতরে পায়ের সঙ্গে ছোট একটি ব্যাগ আটকে রেখেছিল ওই যুবক। মূলত সেই ব্যাগের ভিতরেই সাপটিকে রাখা ছিল। পরে সাপটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ, আর ছেলেটিকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করেছে তারা।

তবে এবার প্রশ্ন আসতে পারে, সাপতো অবৈধ কোন পণ্য নয় তাহলে কেন গ্রেফতার করা হলো? পৃথিবীর অনেক দেশ রয়েছে যেখানে সাপ বেচাকেনা হয়। আর এই সাপ দিয়ে একধরণের মূল্যবান ওষুধ তৈরি করা হয়। তাই সাপ পাচারকারী চক্র দিন দিন বাড়ছে। আর এই সব সাপ তারা ওইসব দেশে নিয়ে গিয়ে চড়া দামে বিক্রি করে। এতে অনেক লাভবান হয় পাচারচক্র।

শুধু সাপ নয় এসব পাচারচক্র বিমানবন্দর দিয়ে পুলিশের অগোচরে মানব, সাপ, স্বর্ণ, অবৈধ মালামাল ও নেশাজাতীয় দ্রব্যাদি প্রতিনিয়ত পাচার করছে। অপরপক্ষে তাদের ধরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিমানবন্দর পুলিশ। কারণ এই ধরণের পাচারচক্রের কারণে নিজ দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়।

এদিকে, জার্মানির বার্লিন বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া সাপ পাচার ঘটনার পিছনে আন্তর্জাতিক সাপ পাচারচক্র জড়িত থাকতে পারে বলে অনুমান পুলিশের। তবে সাপ পাচারের এমন অভিনব পদ্ধতি দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছেন তাদের অনেকেই। কারণ এই কায়দাটি তাদের দেখা সময়ের সবচেয়ে নব্য কায়দা। যা এর আগে আর দেখেনি জার্মানি পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

All rights reserved © meghnapost.com