বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন
এভাবেই অনেকটা আক্ষেপ নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশকে কথাগুলো বলছিলেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের বাসিন্দা পরিমল তান্তি রায়।
তিনি বলেন, একটি ব্রিজের অভাবে ৬টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বিশেষ করে বেশি দুর্ভোগে পড়ে আশোয়ারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীদের।
২০১৫ সালে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের আশোয়ার পাড় চেনাকেটা নদীর উপর ব্রিজটি নির্মাণ করে স্থানীয় প্রকৌশলী বিভাগ। নির্মাণের কিছুদিন পরে বন্যায় ব্রিজের দুই অংশ ভেঙে যায়। এতে রাস্তা চলাচলে চরম দুর্ভোগে পওে ওই গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তা ঠিক থাকলেও ব্রিজটির দুই অংশ ভেঙে গিয়ে হেলে পড়েছে। এ কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকাবাসী। স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ব্রীজটি সংস্কারের জন্য বার বার বলার পরেও গত তিন বছরেও কোন ফল পাওয়া যায়নি।
আশোয়ারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থী রাসনাথ জাহান সিমা বলে, আমাদের স্কুলে যাওয়ার রাস্তার ব্রিজটি ঠিক করে দেন। বর্ষাকালে স্কুলে যেতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়।
ওই এলাকার আফিয়ার রহমান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ‘জগতবেড় ইউনিয়ন থেকে উপজেলায় যাতায়াতের জন্য আমাদের মাত্র একটি রাস্তাই রয়েছে। সেটিও আবার বর্সাকালে এই ভাঙ্গা ব্রিজের কারণেই আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের একটিই চাওয়া, তিনি যেন আমাদের এই ইউনিয়নে একটু নজর দেন এবং খুব দ্রুত আমাদের যাতায়াতের একমাত্র সড়কের এই ব্রিজটি ঠিক করে দেন।’ এটাই আমাদের একমাত্র চাওয়া।
জগতবেড় ইউপি চেয়ারম্যান নবিবর রহমান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেণ, ব্রিজটি সংস্কারের জন্য এরইমধ্যে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ এলেই ব্রিজটি সংস্কার করে দেয়া হবে।
পাটগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী আবু তৈয়ব শামসুজ্জামান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ব্রিজটির এমন অবস্থার কথা এতোদিন কেউ আমাদের জানায়নি বা বলেনি। এতোদিনে জানালে হয়তো আমরা দ্রুত ব্যবস্থাগ্রহণ করতে পারতাম। তাই হয়তো ব্রিজটি সংস্কার করতে বিলম্ব হয়েছে। এবার বরাদ্দ এলেই ব্রিজটির সংস্কারের কাজ করা হবে বলেও জানান তিনি।