বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে ছোট ভাইয়ের জিডি

ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে তার মা ও ছোট ভাইকে বাড়িতে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তার ছোট ভাই উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তবে তুরিন আফরোজ বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘মা ও ছোট ভাইয়ের সঙ্গে আমার দেখা হয়নি।’

উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তুরিন আফরোজের ছোট ভাই একটি জিডি করেছেন। তিনি এবং তার মা আজ কানাডা থেকে এসেছেন। কিন্তু, তাদের বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন। তাদের ওই বাড়ি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। আমরা তাকে আদালতে শরণাপন্ন হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। আদালতের কোনও নির্দেশনা থাকলে পুলিশ তা পালন করবে।’

শাহনেওয়াজ আহমেদ শিশির শুক্রবার (১৪ জুন) বিকালে জিডি (নম্বর ৭৩৮) করেন। তাতে শিশির অভিযোগ করেন, ‘‘আমি ২০১২ সালে পরিবার নিয়ে কানাডায় চলে যাই। ২০১৫ সাল থেকে বড় বোন তুরিন আফরোজকে তার পেশাগত সুযোগ-সুবিধার জন্য উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর সড়কের ১৪ নম্বর আমার বাড়িতে থাকতে দেই। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে আমার বাবা তসলিমউদ্দিন আহমেদ মারা যাওয়ার পর মাকে কানাডায় নিয়ে যাই। আজ শুক্রবার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ৮টায় আমি মাকে নিয়ে কানাডা থেকে দেশে আসি। আমার উত্তরার বাসাতে গেলে বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী বাড়িতে ঢুকতে নিষেধ করে। কারণ জানতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মী জানান, ‘তুরিন আফরোজ ঢুকতে দিতে নিষেধ করেছে।’’

শাহনেওয়াজ আহমেদ শিশির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার মা ১৯৯২ সালে বাড়িটি কেনেন। ২০১৪ সালে তিনি আমাকে দান করেন। আমি হাউজবিল্ডিং থেকে লোন তুলে বাড়িটি তিন তলা করি। আমার মা-বাবা এবং আমি এই বাড়িতেই ছিলাম। ২০০৫ সালে যখন তুরিন আফরোজ অস্ট্রেলিয়া থেকে আসেন, তখন আমরা তাকে এখানে থাকতে দেই। তার পেশার সুবিধার জন্য তাকে থাকতে দেওয়া হয়। মাকে নিয়ে কানাডায় চলে যাওয়ার পর তখন তুরিন আফরোজ বাড়িটি দখল করে নেয়। এখন আমাদের আর ঢুকতে দিচ্ছে না। মাকেও বাড়িতে ঢুকতে দিচ্ছে না।’

শাহনেওয়াজ আহমেদ শিশির বলেন, ‘বাড়ির সব ইউটিলিটি সার্ভিস আমার নামে, বাড়ির ঋন আমার নামে, জমি আমার নামে, রাজউকের প্লান পাস আমার নামে; অথচ আমাকে আর মাকে বাড়িতে ঢুকতে দিচ্ছে না। আমরা কোথায় থাকবো? আমরা নিরাপত্তাহীনতার কারণে থানায় জিডি করেছি।’

শাহনেওয়াজ শিশির কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষগতা করেন। তিনি পরিবার নিয়ে সেখানেই থাকেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তুরিন আফরোজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার বাবা মারা যাওয়ার ৫৩ দিনের মাথায় ছোটভাই ও মা মিলে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই ঘটনায় তারা মামলা করেছে। আমিও মামলা করেছি। আদালত বাড়িটিকে স্থিতিশীল অবস্থায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। যারা যেখানে আছে, তারা সেখানে থাকবে।’

মা ও ভাইকে বাড়িতে ঢুকতে না দেওয়ার বিষয় তুরিন আফরোজ বলেন, ‘আমার সঙ্গে তাদের দেখা হয়নি। তারা বাড়িতে এসেছিল কিনা, তাও জানি না।’

আদালতে মামলা চলমান থাকায় বাড়ির মালিকানা বিষয়ে তুরিন আফরোজ কথা বলেননি। তিনি বলেন, ‘বাড়ি কার তা আদালতে বিচার হবে। আদালতে তারা তো মামলা পরিচালনা করছেন।’

তুরিন আফরোজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর। শাহনেওয়াজ শিশির তার  ছোট ভাই। তারা দুই ভাই-বোন। তাদের প্রয়াত বাবা তসলিমউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ সরকারের কর বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন। মা সামসুন্নাহার তসলিম গৃহিণী। তুরিনদের গ্রামের বাড়ি নীলফামারী জেলার জলঢাকা থানার চাওরাডাঙ্গিতে।

নিউজটি শেয়ার করুন

All rights reserved © meghnapost.com