বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন
জিটিবি নিউজ টুয়েন্টিফোর : কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের দেওয়া বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, সাজাপ্রাপ্ত কোনো আসামির জামিনের বিরোধিতা করা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর পেশাগত দায়িত্ব। খালেদা জিয়া দুটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সুতরাং তার জামিন আবেদনের বিরোধিতা করা আমাদের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার জামিনের বিষয়ে আইনগতভাবে লড়াই না করে তা নিয়ে রাজনীতি করছেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাত করেছেন। একটি মামলায় নিম্ন আদালতের সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার সাজা বাড়ানো হয়েছে। এই মামলায় আপিল বিভাগে তার আপিল বিচারাধীন। অন্য একটি মামলায় নিম্ন আদালতের সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল বিচারাধীন। এ অবস্থায় তার মুক্তি পেতে হলে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ থেকে জামিন পেতে হবে। কিন্তু খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জামিন আবেদনের শুনানি না করেই নানারকম বক্তব্য দিচ্ছেন। যা কাম্য নয়। তাদের আইনগতভাবে মোকাবেলা করেই মুক্তি পেতে হবে। তিনি বলেন, প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি আলাদা। সেটা সরকার দেখবে। এনিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না।
আর দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেছেন, এই মামলায় সরকার কে? সরকারকে চিনি না। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। সুতরাং তার জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেছে দুদক। ভবিষ্যতেও জোরালোভাবে জামিনের বিরোধিতা করবে দুদক।
তিনি বলেন, জামিন আবদেনের শুনানি না করে এবং বিচারাদীন বিষয়ে এনিয়ে রাজনীতিবীদ ও তার আইনজীবীরা যে বক্তব্য দিচ্ছেন তা অযাচিত। এটা কাম্য নয়। তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা ও খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা সরকার ও দুদককে এক করে ফেলেছে। দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তারা দুদক ও সরকারকে এক করে ধ্ম্রজাল সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালত খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। এই সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার আপিল বিচারাধীন। এই মামলায় এর আগে গত ৩১ জুলাই হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন খারিজ করে রায় দেন। এরপর ভিন্ন কারণ দেখিয়ে হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।
গত ১১ সেপ্টেম্বর এই জামিনের আবেদনের ওপর শুনানি হলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। যা এখন যেকোনো আদালতে শুনানি করতে পারেন তার আইনজীবীরা।
এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালত খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়। এই সাজার বিরুদ্ধে কালেদা জিয়া ও দুদকের পৃথক আপিলের ওপর শুনানি শেষে আদালত খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেছেন। হাইকোর্টে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করেছেন খালেদা জিয়া। একইসঙ্গে জামিনের আবেদন করেছেন। কিন্তু শুনানি করছেন না খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।
সুপ্রিম কোর্ট ও নিম্ন আদালত মিলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এখন ৩৭টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে ১৭টি মামলা বিচারাধীন। এরমধ্যে দুটি মামলায় (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা) জামিন পেলেই খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন।