বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন
জিটিবি নিউজ টুয়েন্টিফোর : কলকাতার মেয়রের পাশাপাশি তিনি মমতা ব্যানার্জির মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। কিন্তু পূজার চার দিন তিনি চেতলার পাড়ার ছেলে ববি দা। কলকাতার হাইপ্রোফাইল পূজার মধ্যে অন্যতম চেতলা অগ্রণী। কলকাতার অন্যতম এই পূজা মেয়র ফিরহাদ হাকিম (ববি) এর পাড়ার পূজা চেতলা অগ্রণী।
সেই পূজা ঘিরে প্রতিবারই ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো। এবারেও প্রথমা থেকেই ধীরে ধীরে শুরু হয়ে গেছে চেতলা অগ্রণীতে পূজার ভিড়।
‘কলিকাতা চলিয়াছে নড়িতে নড়িতে’ এই থিমকে কেন্দ্র করেই তিলে তিলে গড়ে উঠেছে ববি হাকিমর তত্ত্বাবধানে থাকা পূজার মণ্ডপ। ববি দা কালের কণ্ঠকে বলেন, রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন কলিকাতা চলিয়াছে নড়িতে নদীতে। আর সেটাই আমাদের আগের জামানায় যা যা ছিল, সেই জিনিস যেমন টেলিফোনের ল্যান্ডলাইন, পুরনো ঘড়ি, পুরনো লেটার বক্স; সেইসব দিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের মন্ডপ।
সব সময় ব্যস্ত থাকেন রাজনীতির কাজ নিয়ে, তবে ববি দা পূজা করেন প্রাণ দিয়ে। এই পূজার উদ্বোধন করেছেন মমতা ব্যানার্জি এবং তিনি দেবী প্রতিমার চক্ষু দান করেছেন। দিদি আমাদের এই পূজাকে অনেক পৃষ্ঠপোষকতা করেন। উনার কাছে আমরা ঋণী, বলেন ববি দা।
তৃণমূলের একজন নেতা বলেন, মমতার কাছে অনেক গুরুত্ব এই পূজার কারণ পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ চেতলা অগ্রণী পূজা।
‘ববি দা ইসলাম ধর্মাবলম্বী। কিন্তু উনি এই পূজার প্রাণ। পূজা নিয়ে সব পরিকল্পনা তার। এই পূজা তাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শ্রেষ্ঠ উদাহরণ’, বলেন ওই নেতা।
হাজার কাজ সামলেও ববি দাকে পূজার চার দিন মণ্ডপে অধিকাংশ সময় পাওয়া যায়। অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে সবাইকে ডেকে ডেকে খাওয়ানো, ববি দা সব কিছুতেই নিজেকে জড়িয়ে রাখেন।.
অনেকেই বলেন এটা ববি দার পূজা। কিন্তু কলকাতার মেয়রকে সেই প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটা মানুষের পূজা। মানুষ আসেন এখানে উপভোগ করে আর সেটাই আমাদের প্রাপ্তি।
যদিও মন্ডপ শয্যায় অনেক রকমের চমক থাকে এই পূজাতে। সাবেকি সাজেই কিন্তু এখানে দুর্গাকে সাজানো হয়। ‘প্রতিবারের মতো এবারেও সেই ঘরানা থেকে সরে আসেনি চেতলা অগ্রনী, বলেন ববি দা।
উদার মনমানসিকতা, আধুনিক ভাবনা এবং প্রতিমার সাবেক সাজ এইসব মিলিয়ে চেতলা অগ্রণীর পূজা সত্যি এক অনবদ্য মিশ্রণ।