বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৭ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

অসহায় মানুষকে খাওয়াচ্ছেন দুদক কর্মকর্তা

জিটিবি নিউজঃ করোনার সংকটে দিশেহারা অসহায়, ছিন্নমূল, দরিদ্র, খেটে খাওয়া মানুষ। তাঁদের আয় নেই, ঘরে খাবার নেই। এসব মানুষের জন্য রান্না করা খাবারের প্যাকেট নিয়ে গলি থেকে রাজপথ ঘুরে বেরাচ্ছনে একজন সরকারি কর্মকর্তা। তাঁদের মাঝে একবেলা খাবার তুলে দিচ্ছেন তিনি।

এই সরকারি কর্মকর্তার নাম ওয়াহিদ মঞ্জুর সোহাগ। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বগুড়ার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক।
প্রথমে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায় মানুষকে একবেলা খাবার দেওয়ার মাধ্যমে মানবিক কর্মযজ্ঞ শুরু করেন ওয়াহিদ মঞ্জুর। পরে তাঁর এই মানবিক কাজে এগিয়ে আসেন আরও কয়েকজন।
বগুড়া শহরের অলিগলি, ফুটপাত, রেলস্টেশন, বস্তিতে অবস্থান করা অসহায়, ছিন্নমূল, শারীরিক প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক, রিকশাচালক, শ্রমজীবী মানুষের মাঝে গত প্রায় ১৫ দিন ধরে প্যাকেট করা খাবার বিতরণ করছেন ওয়াহিদ মঞ্জুর। কেউ অনাহারে থাকার খবর পেলে তাঁর কাছে ছুটে গেছেন।
পবিত্র রমজানের আগে প্রতিদিন দুপুরে কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবককে নিয়ে মানুষের মাঝে ১০০ প্যাকেট সবজি খিচুড়ি বিতরণ করেন ওয়াহিদ মঞ্জুর। রমজান মাসে প্রতিদিন ইফতারের আগে ১০০ জনের হাতে তুলে দিচ্ছেন রান্না করা খাবার। তাঁর এই কাজে বিনয়, মুক্ত ও আল্পনা নামের তিন স্বেচ্ছাসেবী সহযোগিতা করছেন।

ওয়াহিদ মঞ্জুর প্রথম আলোকে বলেন, বগুড়া শহর ছাড়াও বুধবার থেকে তিনি তাঁর নিজ জেলা গাইবান্ধা শহরের ছিন্নমূল ১০০ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ শুরু করেছেন। এ কাজে তাঁকে সহযোগিতা করছেন সেখানকার তিনজন স্বেচ্ছাসেবী।
ওয়াহিদ মঞ্জুর জানালেন, বগুড়া ও গাইবান্ধা শহরে ঈদ পর্যন্ত চলবে ছিন্নমূল মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার এই কার্যক্রম। এ ছাড়া ঈদের আগে গাইবান্ধা জেলার ২০০টি পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

দুদকের এই কর্মকর্তা জানান, গত পাঁচ বছর ধরে দুই ঈদে তাঁর নিজ জেলা গাইবান্ধায় ছিন্নমুল ১০০ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করে আসছেন তিনি। চাকরি সূত্রে বগুড়া শহরে থাকার কারণে এখানকার অসহায় মানুষের মুখে একবেলা ভাত তুলে দেওয়ার চিন্তা মাথায় আসে তাঁর। সপ্তাহ দুয়েক আগে প্রথমে নিজ উদ্যোগে রান্না করা খিচুড়ির প্যাকেট বিতরণ শুরু করেন।

ওয়াহিদ মঞ্জুর জানান, প্রথম থেকেই শহরের একটি রেস্তোরাঁ মালিককে খাবার রান্নার দায়িত্ব দিয়েছেন। বাজার, রান্না থেকে শুরু করে প্যাকেট করার কাজ রেস্তোরাঁই করে দেয়। তারা প্রতিদিন ১০০ প্যাকেট খিচুড়ি সরবরাহ করে। এরপর শহরঘুরে অসহায় মানুষের মাঝ সেই খাবারের প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়।

ফেসবুকে এই কার্যক্রমের কথা জানতে পেরে পরিচিত আরও কয়েকজন ওয়াহিদ মঞ্জুরের এই উদ্যোগে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এতে উৎসাহিত হয়ে বগুড়ার পাশাপাশি গাইবান্ধা শহরেও প্রতিদিন ইফতারের আগে ১০০ ছিন্নমূল মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া শুরু করেছেন ওয়াহিদ মঞ্জুর।

উদ্যোগ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াহিদ মঞ্জুর বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় সবকিছুই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সবচেয়ে বিপদে পড়েন শহরের অসহায়, দরিদ্র মানুষ। তাঁরা খাবার সংকটে পড়েন। এই মানুষগুলোর কষ্টের কথা চিন্তা করেই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁদের মুখে একবেলা খাবার তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিই। ফেসবুকে এই উদ্যোগের কথা জেনে কয়েকজন সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী বলেন, সমাজের সামর্থ্যবান লোকেরা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে করোনার এই ক্রান্তিকালে সব ক্ষুধার্তদের মুখে একবেলা খাবার তুলে দেওয়া সম্ভব। সহায়তা পেলে বগুড়া ও গাইবান্ধা ছাড়াও অন্য জেলাতে এই কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছে আছে ওয়াহিদ মঞ্জুরের।

নিউজটি শেয়ার করুন

All rights reserved © meghnapost.com