বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

হাজীগঞ্জে ১০০ কোটি টাকার সরকারি খাস ভূমি অবৈধ দখলে,উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

হাজীগঞ্জ পৌরসভার অবৈধ দখলে থাকা হকাস মার্কেটের এক অংশের দৃশ্য।

মো.মজিবুর রহমান রনি :

হাজীগঞ্জে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে অবৈধ দখলে থাকা প্রায় ১০০ কোটি টাকার সরকারি খাস ভূমি উদ্ধারে প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয়ভাবে এটিকে চাঁদপুর জেলার অন্যতম বড় দখলকৃত সরকারি জমি হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে জমিটি উদ্ধারে অগ্রগতি নেই। পেরিফেরির অনুমতি হওয়ার পরও বছর পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে।

হাজীগঞ্জ বাজারস্থ পৌর হকার্স মার্কেটের অন্তর্ভুক্ত প্রায় ১ একর ১৩ শতাংশ জমি, যা ২০ বছর ধরে হাজীগঞ্জ পৌরসভা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। দখলকৃত জমির উপর নির্মিত পৌর হকার্স মার্কেটে প্রায় ৩৫০টি দোকান রয়েছে, যেখান থেকে মাসিক ভাড়া হিসেবে বিপুল অঙ্কের টাকা উঠিয়ে নিচ্ছে পৌরসভা। এই ভাড়ার কারণে প্রতি বছর রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

গত বছরের ২৮ এপ্রিল চাঁদপুরের একটি দৈনিক পত্রিকায় “প্রায় শত কোটি টাকার সরকারি খাস ভূমি হাজীগঞ্জ পৌরসভার দখলে” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান জমি উদ্ধারে উদ্যোগ নেন। এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায়, গত বছরের ২৪ জুলাই হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান মানিকের নেতৃত্বে সীমানা নির্ধারণ এবং পরবর্তীতে সরজমিনে পেরিফেরি কার্যক্রম শুরু হয়।

তবে জেলা প্রশাসক পেরিফেরির অনুমতি দিলেও জমি দখলমুক্ত করার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। ফলে মূল্যবান সরকারি এই জমি এখনো দখলে রয়ে গেছে।

সরকারি জমি উদ্ধারের প্রক্রিয়ায় প্রথম ধাপ হিসেবে দখলে থাকা ব্যক্তিদের তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করা হয়। পর্যায়ক্রমে এই তালিকা জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিয়ে অনুমোদন নিয়ে জমিটি বৈধভাবে বন্দোবস্ত দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এই কার্যক্রমে কোন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না, যা প্রশাসনের উপর জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে।

জানা যায়, ১৯৯৭ সালে যানজট কমাতে এবং হকারদের পুনর্বাসনের জন্য মূল সড়ক থেকে হকারদের উচ্ছেদ করা হয় এবং ১ বছরের লিজ চুক্তিতে পৌরসভাকে জমিটি বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু ২০০৩ সালে এই লিজ নবায়ন না করায় বাতিল হয়ে যায়। তারপরও পৌরসভা জমিটি নিজেদের দখলে রেখে সেখানে পৌর হকার্স মার্কেট তৈরি করে, যেখান থেকে দীর্ঘ ২০ বছরে প্রায় ৬—৮ কোটি টাকা ভাড়া আদায় করেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই মার্কেটে হকার পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দকৃত দোকানগুলোর অনেকগুলোই হকারদের পরিবর্তে বহিরাগত ব্যবসায়ীদের হাতে চলে গেছে। অনেক হকার নিজের দোকান অন্যের কাছে বিক্রি বা ভাড়া দিয়ে দিয়েছেন, যা ‘হাত বদল’ নামে পরিচিত। প্রতিটি দোকান হাত বদলে ৫—৮ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়, যা বৈধতা ও প্রশাসনিক মনোযোগের দাবি রাখে।

অবৈধভাবে হকার্স মার্কেটের দোকান হস্তান্তরের ফলে বর্তমানে হাজীগঞ্জ বাজারে হকারদের সংখ্যা বেড়ে গেছে। ফুটপাত এমনকি রাস্তাও দখল করে হকাররা ব্যবসা চালাচ্ছেন, ফলে পথচারীদের চলাচলে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে এবং যানজটও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনসাধারণের চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় হকার পুনর্বাসন পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করছে তারা। জমিটি অবৈধ দখলমুক্ত করার পাশাপাশি জমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ ও নীতিমালা প্রয়োগ জরুরি।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস শীল বলেন, আমরা কাজ করছি। ব্যবসায়ীদের সাথে কথা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

All rights reserved © meghnapost.com