বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৭ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

ত্রিভুজ প্রেমের বলি হয়ে প্রেমিকার হাতে খু/ন প্রেমিক।

 মেঘনাপোষ্ট ডেস্ক রিপোর্ট :

রাখতেই যখন পারবে না তাহলে কথা দিয়েছিলো কেনো? স্বপ্ন দেখিয়েছিলে কেনো?

খুন হওয়ার ঠিক দুই দিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন একটি স্যাটাস দিয়েছিলেন সুমন আহমেদ।

এর কয়েকদিন আগে লিখেছেন অপেক্ষা মানুষকে জীবিত রাখে, বস্তত অপেক্ষাই জীবন।

শুধু তাই নয় এর আগে লিখেছেন — তুমি ছাড়া আর দ্বিতীয় কোনো নারীর জায়গা হবে না এই মনে।

এমন একাধিন আবেগন পোষ্ট করেছে সুমন আহমেদের ফেসবুক ওয়ালে।

৪ নবেম্বর বিয়ের কথা বলে ডেকে নিয়ে প্রেমিককে নিয়ে কলেজছাত্র সুমন আহমেদকে হত্যা করে তার তথাকথিত প্রেমিকা আন্নি।

শেরপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র সুমন মিয়া। একই কলেজের সহপাঠী আন্নির সাথে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের দুজনের একাধিক ছবি পাওয়া গেছে। তবে সুমন ছাড়াও একই সময়ে ময়মনসিংহ নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী রবিনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান ওই তরুণী। একপর্যায়ে সুমনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রবিন ও অভিযুক্ত তরুণী। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব কথা স্বীকার করেছেন রবিন।

এদিকে, গেলো ৪ নভেম্বর (সোমবার) বিয়ের কথা বলে সুমনকে ডেকে আনার পর প্রথমে শহরে বিয়ের কেনাকাটা সম্পন্ন করেন ওই তরুণী। এরপর বিকালে শহরের সজবরখিলা এলাকায় রবিনের বাসায় এনে সুমনকে হত্যার পর উঠানে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

সুমনের খালা কল্পনা বলেন, ‘সুমনকে আমি আমার ছেলের মতো করে বড় করেছি। ওর কোনও আবদার আমি ফালাই নাই। আমরা অনেক বোঝাইছি, এই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার জন্য। আজকে এই ডাইনিটা আমার সুমনরে হত্যা করলো। আমি এর বিচার চাই।’

পরিবারের তথ্যমতে, এসএসসি পরীক্ষায় একই কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়ার সময় সুমনের সঙ্গে ওই তরুণীর পরিচয় হয়। পরে তা প্রেমের সম্পর্কে গড়ালে দুজনই একই কলেজে ভর্তি হয়।

১১ নবেম্বর সকালে সুমনের বাবা নজরুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় কথিত প্রেমিকা ও তার বাবাকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে প্রেমিক রবিনের তথ্য বেরিয়ে আসে। পরে অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহ থেকে রবিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, তদন্তের পাশাপাশি অভিযান চালিয়ে প্রথমে ওই তরুণী ও তার বাবাকে গ্রেফতার করলেও সুমনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সোমবার রাতে ময়মনসিংহ থেকে রবিনকে গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে সে সুমনকে মেরে শহরের সজবরখিলা এলাকায় তার বাড়ির উঠানে লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখার কথা স্বীকার করে। পরে পুলিশ তাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে তার দেখানো জায়গায় মাটি খুঁড়ে সুমনের লাশ উদ্ধার করে।

এ ব্যাপারে শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘পুরো ঘটনাটি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করেছে। প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে।’এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মূল তিন জন আসামি গ্রেফতার হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত থাকার বিষয় তদন্তে উঠে এলে তাদেরও দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে

নিউজটি শেয়ার করুন

All rights reserved © meghnapost.com