বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন
সংগৃহীত ডেস্ক রিপোর্ট :
অধিকৃত পশ্চিম তীরে দ্রুততর সময়ে ইহুদি বসতি স্থাপনের নতুন রেকর্ড গড়ার পর কিছু সংখ্যক ইসরায়েলি এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের দিকে তাকিয়ে আছেন। যে অঞ্চলটিকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের কেন্দ্র বলে মনে করা হয়, তারা চাচ্ছেন সেখানে ইসরায়েলের সার্বভৌম ক্ষমতা।
দুই বছর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতায় ফেরার পর পশ্চিম তীরে দ্রুতই ইহুদি বসতি স্থাপন বেড়েছে। এ সময় তাদের ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের জো বাইডেন প্রশাসন নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছিল। কিন্তু নেতানিয়াহু সরকার বসতি স্থাপনকারীদের জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছে।
বর্তমানে পশ্চিম তীরের জর্ডান ভ্যালিতে কয়েকটি টিলার চূড়ায় ইসরায়েলের পতাকা উড়তে দেখা যাচ্ছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা। তারা আরও ভূমি হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। গতকাল শনিবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।
বসতি স্থাপনকারীদের অনেকে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন চলাকালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ের জন্য প্রার্থনাও করেছিলেন। পশ্চিম তীরের শিলো এলাকার বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েল মেদাদ বলেন, ‘আমাদের অনেক প্রত্যাশা। এ জন্য আমরা (ট্রাম্পের জয়ে) অনেকটাই উচ্ছ্বসিত।’
ক্ষমতায় এলে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের বিতর্কিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’ চুক্তি করতে চাইবেন। ওয়াশিংটনের স্বপ্ন ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদির সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। সৌদি আরব বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মতো পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের বিরোধী। ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান– উভয় পার্টির প্রশাসনে মধ্যপ্রাচ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা ডেনিস রস বলেন, ট্রাম্পের অগ্রাধিকারমূলক কাজ হবে আব্রাহাম অ্যাকর্ড সম্প্রসারণ। ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিম তীরকে গিলে ফেললে সৌদিরা বিষয়টি ভালোভাবে নেবে না; তারা ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তিভুক্ত হতে চাইবে না। পুরোপুরি অধিগ্রহণ ফিলিস্তিন-ইসরায়েল দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকেও কবর দেবে। এর ফলে গাজায় এক বছরের বেশি সময় ধরে যে যুদ্ধ চলছে, তা থামানোও কঠিন হবে। এ যুদ্ধের জেরে এখন লেবাননেও হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।
ট্রাম্প প্রথম দফায় ক্ষমতায় আসার পর মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করেন। এর মাধ্যমে তিনি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে সরে আসেন। ২০২০ সালে তিনি বিদ্যমান সীমানার মধ্যেই একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলেন, যা-তে দখলকৃত এলাকায় ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের দাবি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ট্রাম্প আবার নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ স্থানটি নিয়ে তিনি কোনো পরিকল্পনার কথা জানাননি। ট্রাম্পের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিটও ফিলিস্তিন-ইসরায়েল নীতি নিয়ে কিছু বলেননি। তিনি শুধু বলেছেন, ট্রাম্প সামর্থ্য অনুযায়ী বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে আনবেন।
বসতি স্থাপনকারীদের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালের স্মোরিচ গত সপ্তাহে বলেছেন, তাঁর প্রত্যাশা ইসরায়েল পুরো পশ্চিম তীর দখল করে নেবে। তাঁর প্রত্যাশা, ট্রাম্প প্রশাসনের সহায়তায় আগামী বছরের মধ্যে ইহুদিরা পুরো পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রণ নেবে। পশ্চিম তীরের ইহুদিদের সংগঠন ইয়াশা কাউন্সিলের প্রধান ইসরায়েল আঞ্জ এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েল সরকারকে আরও ‘এগিয়ে যেতে’ সহায়তা করবে। ৫ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিন অধিকৃত শিলো এলাকায় ট্রাম্পের বিজয়ের জন্য প্রার্থনারও আয়োজন করেন তিনি।
এদিকে গাজা ও লেবাননে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। আলজাজিরা জানায়, শনিবার লেবাননের বৈরুতে ব্যাপক বোমা হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত ও কয়েক ডজন আহত হন। আটতলা একটি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়ে।
একই দিনে গাজায় বিমান হামলায় ১৯ ফিলিস্তিনি নিহত হন। গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজায় ১২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২০৫ জন। গত বছরের ৭ অক্টোবরের পর এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৪৪ হাজার ১৭৬ জন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৪৭৩ জন।
সুত্র সমকাল।