বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন
বিশেষ প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের কালিহাতীর পাইকড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ফরমান আলীর জমজমাট মাদক ব্যবসা। ইউপি সদস্য হওয়ার কিছু দিন পর থেকে মাদক ব্যবসায় তার নিজস্ব কিছু লোকজন দিয়ে মেম্বারের আড়ালে ইয়াবা সহ মাদকদ্রব্য বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। ইউপি সদস্য ফরমান আলী পাইকড়া ইউনিয়ন এর ৯ নং ওয়ার্ড বলিখন্ড গ্রামের মৃত. আফসার আলীর ছেলে তার বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদকসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তাকে এলাকাবাসী মাদক ব্যবসার গডফাদার হিসেবে চিনেন।
তার বাহিনীতে ৫-৬কজন সদস্যের একটি সিন্ডিকেট। ফরমান মেম্বারেরব এক নাম্বার সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন বলরাম নামের একজন গত ৩-৪ মাস আগে ডিবির হাতে গ্রেফতার হয় ফরমান । এসময় তিনি বলেন ফরমান মেম্বারের নামের উপরেই মাদক ব্যবসা চলে। সরেজমিনে পৌছান, গোপালপুর, বলিখন্ড ও শিহরাইল এলাকা ঘুরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা যায়, গোপালপুরে বিভিন্ন এলাকায় মদ, গাঁজা, ইয়াবা ও হিরোইন এর রমরমা ব্যবসার সাথে বিভিন্ন বয়সের মানুষ কর্ম বাদ দিয়ে মাদকের ব্যবসায় জড়িয়ে গেছে। মাদকের সঙ্গে উঠতি বয়সের ছেলেরাও জড়িয়ে তাদের জীবন দিনে দিনে ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও অপকর্ম বেড়ে যাবে। তাছাড়া ফরমানের বিরুদ্ধে মাডার এবং মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার ১১টার দিকে পাইকড়া ইউনিয়ন পরিষদে সচিব এর রুমে মেম্বারদের হাজিরা খাতায় দেখা যায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই পর্যন্ত কোনো স্বাক্ষর নেই। ২০২২সালে শিহরাইল গ্রামের জহিরুল ইসলাম আকাশ নামে এক ব্যক্তির হত্যা মামলার ২ নাম্বার আসামি হন ফরমান মেম্বার। এরপর চলে যান আত্মগোপনে। কিছুদিন জেল খেটে জামিনে ছাড়া পেয়ে অবৈধ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। মাদক ব্যবসাসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে এখন অর্ধশত কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। ফরমান ২০২১ সালে কালিহাতীর পাইকড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মেম্বারের দাপট দেখিয়েই চালায় অপরাধমূলক কর্মকান্ড। ফরমান মেম্বারের পৌজান বাজারে লেদ এবং ওয়েলিং এর দোকান ছিলো মাদকের ব্যবসার প্রসার করতেই দোকান ছেড়ে দেন তিনি। নিহত জহিরুল ইসলাম আকাশের বড় ভাই ওই ঘটনায় আহত নুরুল ইসলাম বলেন, মামলা এখনো চলমান রয়েছে। ওই মামলায় ফরমান মেম্বার ২ নাম্বার আসামি। এবিষয়ে পাইকড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য ফরমান এর মোবাইল ফোন একাধিক বার চেষ্টা করা হলেও ফোনে তাকে পাওয়া যায়নি। পাইকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজাদ হোসেন এবিষয়ে বলেন, ফরমান মেম্বার কে আমি মাদকের বিষয়ে জিজ্ঞাস করেছিলাম সে আমার কাছে অস্বীকার করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে মাদক সহ কয়েকটি মামলা রয়েছে এজন্য পালিয়ে থাকে মাঝে মধ্যে পরিষদে আসে। জানতে পারলাম পুলিশ তাকে খুঁজে। কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন এবিষয়ে জানান, সরেজমিনে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।