meghnapost
- ৩০ জুন, ২০২৫ / ৮৪ বার পঠিত
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পানির পাম্প ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতে না দেওয়ায় স্কুলটির প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা মো. আজিম রানা ভূঁইয়া উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়ন ১ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও পূর্বকান্দা গ্রামের মো. এলাছ উদ্দিন ভূঁইয়ার পুত্র। এ ঘটনায় মামলা করার পর থেকে যুবলীগ নেতা আজিম রানা পলাতক রয়েছেন।
গতকাল রবিবার সকাল দেড়টার দিকে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্বকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় স্কুলের ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক এ কে এম মাসুদ ও দপ্তরি মিকাইল মিয়া হামলার শিকার হন। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে শিক্ষককে উদ্ধার করে।ভুক্তভোগী শিক্ষক এ কে এম মাসুদ জানান, বিগত দুই বছর ধরে আজিম রানা স্কুলে এসে উৎপাত করত। বিভিন্ন সময়ে স্কুলের বেঞ্চ ও অন্য জিনিসপত্র জোর করে নিয়ে যেত।
প্রতিবাদ করলেই সে অশ্লীল ভাষায় গালাগালসহ তেড়ে আসত। এমন ঘটনা আরো আগেও ঘটেছে। তার ভয়ে চুপ থাকতে হয়।তিনি আরো জানান, গত ছয় মাস আগেও স্কুল থেকে বেঞ্চ নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে দপ্তরিকে উপলক্ষে নিয়ে বেঞ্চ ফেরত চাইতে গেলে আজিম রানা উদ্ভট আচরণ করেন।প্রধান শিক্ষক মাসুদ বলেন, গেল ঈদের বন্ধের সময় আজিম রানা কাউকে না জানিয়ে স্কুলের পানির ট্যাংক থেকে পাইপ লাগিয়ে একটানা তার নিজের পুকুরে পানি দেওয়ায় পাম্পটি পুড়ে যায়। এ ছাড় আজিম একজন মাদক সেবনকারী ও মাদক কারবারি। প্রায় সময়ই দপ্তরির রুমে এসে জোর করে মাদক সেবন করত। এসবে বাধা দিলে তার উগ্রতা বেড়ে যেত।
আজিমের অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তার মায়ের কাছে বিচার দেওয়ার জেরে রবিবার দুপুরে স্কুলের অফিস রুমে ঢুকে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং এক পর্যায়ে আমার শার্টের কলার ও মারধর করে। এ সময় অন্যান্য শিক্ষকরা এসে অফিস রুমের দরজা বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিক ফোনে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানালে তখন তিনি থানার সহযোগিতা নিয়ে পুলিশ পাঠান। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আমাকে উদ্ধার করে ।স্থানীয় সূত্র জানায়, আজিম রানা একজন মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলাসহ বেশ কিছু মামলা রয়েছে। তার আরেক ভাই মাসুদ ভুঁইয়াকে কিছু দিন আগে ডাকাতির অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তারা।
ভৈরব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছিদ্দিকুর রহমান জানান, স্কুল চলাকালীন সময়ে আসামি আজিম প্রধান শিক্ষকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় সমাজের অধঃপতনের চিত্র লক্ষণীয়। তবে প্রতিপক্ষ স্থানীয়ভাবে যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, শিক্ষক শ্রেণির মতো একজন সম্মানিত সরকারি কর্মকর্তাকে অপদস্ত করার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালের কণ্ঠকে জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অফিস রুম থেকে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করি। তাকে লাঞ্ছিত ও মারধর করার সত্যতা পাওয়া যায়। মামলা হয়েছে। যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।