বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৯ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

রান্ধুনীমুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভয়াবহ ফলাফল: ১০০ জনে ফেল ৬৫, নেই একটিও A+ বা A গ্রেড! দায় কার?

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার রান্ধুনীমুড়া গ্রামে অবস্থিত রান্ধুনীমুড়া উচ্চ বিদ্যালয় ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ভয়াবহ ফলাফলের নজির গড়েছে। এ বছর এই বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১০০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৩৫ জন, আর ফেল করেছে ৬৫ জন শিক্ষার্থী—যা মোট পরীক্ষার্থীর দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি।

শুধু পাশের হারেই নয়, শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত গ্রেড বিশ্লেষণেও হতাশার ছাপ স্পষ্ট। এ বছর একজন শিক্ষার্থীও A+ বা A গ্রেড পায়নি। A– পেয়েছে মাত্র ৪ জন, B পেয়েছে ১৭ জন, C পেয়েছে ১৪ জন। অর্থাৎ, যারা পাস করেছে, তাদের বড় অংশই পেয়েছে নিচু গ্রেড, যা বিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকাজুড়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। একজন স্থানীয় অভিভাবক বলেন, “শুধু বই ধরিয়ে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। শিক্ষকরা ঠিকমতো ক্লাস নেন না, মনিটরিং নেই। স্কুলে ক্লাস হয় কি না, সেটা কেউ দেখেও না। বছরের পর বছর এমন দুরবস্থা চললেও কর্তৃপক্ষ নির্বিকার।”

অপরদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ দায় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের কাঁধে চাপিয়ে বলেন, “অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ঠিকমতো খেয়াল রাখে না। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগী নয়। শিক্ষকরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তারা যদি বাসায় পড়ালেখা না করে, তাহলে আমাদের আর কী করার আছে?”

তাঁর এমন বক্তব্যে আরও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অভিভাবক মহল। তাদের দাবি, “শিক্ষকদের দায়িত্ব শুধু ক্লাসে এসে বই পড়ে যাওয়া নয়, বরং শিক্ষার্থীর দুর্বলতা বোঝা, তাকে মোটিভেট করা—এটাই প্রকৃত পাঠদান। যা এখানে দেখা যায় না।” শিক্ষকদের দক্ষতা ও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

ফলাফলের করুণ চিত্র দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—শত শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনও কি A বা A+ পাওয়ার যোগ্য ছিল না? তবে কি শিক্ষকদের পাঠদানে যোগ্যতা বা বোঝানোর ক্ষমতায় ঘাটতি আছে?

একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বলেন, “এই ফলাফল শুধু ছাত্রদের নয়—শিক্ষকদেরও ব্যর্থতার দলিল। কারণ ছাত্র যদি দুর্বল হয়, তখনই শিক্ষকের ভূমিকা শুরু হয়। যদি একজন শিক্ষার্থীকেও গাইড করে ভালো গ্রেডে তোলা না যায়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—তারা আদৌ ক্লাসে কী শেখাচ্ছেন?”

তিনি আরও বলেন, “বিদ্যালয়ে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম নেই, শিক্ষকদের মধ্যে আত্মসমালোচনা বা মূল্যায়নের অভাব আছে। মাল্টিমিডিয়া ক্লাস, সাপ্তাহিক টেস্ট, শিক্ষার্থীদের মানসিক মূল্যায়ন—এসব কিছুই অনুপস্থিত। এতে ফলাফলে এমন ভরাডুবি আসা স্বাভাবিক।”

সচেতন মহল বলছে, এই ফলাফল কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং এটি দীর্ঘদিনের অদক্ষতা, অজবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফল। বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, যারা আছেন তাদের অনেকেই নিয়মিত ক্লাস নেন না। এমন বাস্তবতায় ফলাফল শুধু ছাত্রের ব্যর্থতা নয়—এটি একটি অবহেলিত ও রুগ্ন শিক্ষা ব্যবস্থার নগ্ন প্রতিচ্ছবি

নিউজটি শেয়ার করুন

All rights reserved © meghnapost.com