বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জে পরিবহনশ্রমিকদের তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে। আজ সোমবার সকালেও সুনামগঞ্জ থেকে কোনো বাস সিলেট, ঢাকাসহ দেশের অন্য কোথাও ছেড়ে যায়নি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
বাসভাড়া নিয়ে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পরিবহনশ্রমিকদের মধ্যে ঝগড়ার জেরে গতকাল রোববার বিকেলে শ্রমিকেরা প্রথমে সড়ক অবরোধ করেন। পরে তাঁরা কর্মবিরিতর ডাক দেন। গতকাল সন্ধ্যার পর সুনামগঞ্জ থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আজ সকাল থেকেও কোনো বাস সুনামগঞ্জ ছেড়ে যায়নি। সকালে থেকে সিএনজি অটোরিকশার চালকেরা ধর্মঘটে যোগ দেন। কেউ কেউ সিএনজি অটোরিকশা চালানোর চেষ্টা করলে তাতে বাধা দেন শ্রমিকেরা।
সকালে সিলেট যাবেন বলে জেলা শহরের বাস টার্মিনালে আসেন তাহিরপুর উপজেলার বাসিন্দা এরশাদ মিয়া। সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর এক আত্মীয় চিকিৎসাধীন। কিন্তু বাস টার্মিনালে এসে দেখেন কোনো বাস চলছে না। এরশাদ মিয়া বলেন, কখন বাস চলবে, সেটিও কেউ বলতে পারছেন না। এতে মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।
টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে আসা ঢাকার বাসিন্দা সামিয়ান ইসলাম বলেন, ‘সকালের বাসে ঢাকায় যাব। এ জন্য টিকিট নেওয়া ছিল। এখন এসে দেখি বাস চলছে না। কী করব, বঝুতে পারছি না। সিলেটেও যাওয়া যাচ্ছে না।’
সুনামগঞ্জে দূরপাল্লার একটি পরিবহনের ব্যবস্থাপক বলেন, বাসে টিকিট দেওয়ার পর গতকাল সন্ধ্যায় হঠাৎ করে ঘোষণা দেওয়া হয় বাস চলবে না। এরপর তাঁরা পরিবহন শ্রমিকদের অনেক বুঝিয়েছেন, অন্তত রোববার রাতে যেন বাস চলে, এতে যাঁরা টিকিট নিয়েছেন তারা নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যেতে পারবেন, কিন্তু শ্রমিকেরা শোনেননি। তিনি বলেন, রাতে বিকল্প ব্যবস্থায় অনেকে সিলেটে গেছেন, কিন্তু আজ সকাল থেকে আর সেটি সম্ভব হচ্ছে না। সব যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন শ্রমিকেরা।’
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার তোফায়েল আহাম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, আমরা সেটিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পরিবহন মালিক শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক আছে। আশা করি একটা সমাধান আসবে।’
জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা জানান, তিন দফা দাবিতে শ্রমিকেরা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। তাই সুনামগঞ্জ থেকে সব বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তাঁদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনার বিচার ও কারাগারে থাকা শ্রমিকের মুক্তি।
সোর্স : ঢাকা পোষ্ট