বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫১ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

রেলওয়ের দীঘি লিজ নিলেন খোরশেদ আলম, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হাসান হোসাইন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে রেলওয়ের জমিতে অবস্থিত প্রায় আড়াই একর জলাশয় বৈধভাবে লিজ নিয়েছেন স্থানীয় মাছ চাষি খোরশেদ আলম। কিন্তু এ জলাশয় ঘিরে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ফয়সাল হোসাইন ও তার ছোট ভাই পৌর বিএনপির সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল হাসান।

দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের এ জলাশয় দখল করে রেখেছিলো স্থানীয় স্বপন মিয়ার পরিবার। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর লাইসেন্স নবায়নের বাধ্যবাধকতা থাকলেও স্বপনের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী আমেনা বেগম কোনো সরকারি কাগজপত্র ছাড়াই অবৈধভাবে পুকুর ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। এ বিষয়ে সরেজমিনে আমেনা বেগম নিজেও বিভিন্ন সময়ে মিলন, আজাদ, রফিক ও জাহাঙ্গীরের কাছে পুকুর ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ খোরশেদ আলম আনুষ্ঠানিকভাবে জলাশয়ের জন্য আবেদন করলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহা-ব্যবস্থাপক তা অনুমোদন করেন। ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি তার নামে অস্থায়ী লাইসেন্স ইস্যু হয়। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি চালান জমা দিয়ে খোরশেদ আলম জলাশয়ের বৈধ দখল পান।

 

কিন্তু দীর্ঘদিনের দখল হারানোর ক্ষোভে স্বপন মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগম রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আঘাত করার কৌশল নেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি ষড়যন্ত্র করে ছাত্রদল নেতা ফয়সাল হোসাইন ও তার ভাই সাইফুল হাসানকে মিথ্যা মামলায় জড়াতে ভিডিও তৈরি করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পাঠান।

এ ভিডিও ধারণের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শরীফ নামের স্থানীয় এক যুবক, যিনি জানিয়েছেন— রাজনৈতিক প্ররোচনায় তিনি ভিডিও ধারণ করেছিলেন।

রেলওয়ে চাঁদপুর অঞ্চলের সার্ভেয়ার মো. জাকির হোসেন বলেন, “খোরশেদ আলম নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করেছেন এবং লাইসেন্স পেয়েছেন। সরকারি চালানও জমা দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই রেলওয়ের পক্ষ থেকে জলাশয় বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”

এদিকে হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো. মহিউদ্দিন ফারুক জানান, আমেনা বেগম এখনো কোনো বৈধ লাইসেন্সের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তবে খোরশেদ আলমের বৈধ লাইসেন্সের নথি পুলিশের হাতে রয়েছে।

ছাত্রদল নেতা ফয়সাল হোসাইন বলেন, “জলাশয়ের বৈধ লাইসেন্স খোরশেদ আলমের নামে হলেও আমাদের জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ফায়দা নিতে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে। এ বিষয়ে আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রেলওয়ের দীঘি ঘিরে এ বিরোধ কেবল দখলদারিত্বের নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ফাঁসানো ও হয়রানির এক নোংরা খেলা

নিউজটি শেয়ার করুন

All rights reserved © meghnapost.com