meghnapost
- ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ / ১২১৭ বার পঠিত
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঘটা করে অনুষ্ঠিত হয়েছিল রনি মিজির (১৯) গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। আজ শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর তিনি বর সাজে কনের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। সঙ্গে থাকতেন পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনেরা। বসতেন বিয়ের পিঁড়িতে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা আর বাস্তব হলো না—তাকে তুলে নেওয়া হলো জীবনের শেষ বাহন খাটিয়ায়।
বরযাত্রীর পরিবর্তে স্বজনেরা হলেন তার জানাযার সহযাত্রী। শুক্রবার জুমার নামাজের পর জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান রনি মিজি। তিনি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়নের কাপাইকাপ গ্রামের মিজি বাড়ির বাসিন্দা বিল্লাল মিজির ছেলে।
জানা গেছে, রনি মিজি গত বছর হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। পড়াশোনার সময় পাশের শাহরাস্তি উপজেলার এক সহপাঠী মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক, যা পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়েতে পরিণত হয়। বিয়ের জন্য আত্মীয়স্বজনকে আমন্ত্রণ জানানোসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল।
শুক্রবার দুপুরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। এর আগের রাতে বর ও কনের বাড়িতে ছিল গায়ে হলুদের আয়োজন। আনন্দঘন সেই পরিবেশ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের মধ্যেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন রনি। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের লোকজন তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। রনির মৃত্যুতে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। এদিকে বরের মৃত্যুর খবর শুনে অসুস্থ হয়ে পড়েন কনে ও তার প্রবাসী বাবা। কনেকে কুমিল্লার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার বাবাও প্রবাসে চিকিৎসাধীন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের প্রধানীয়া বলেন, “রনি মিজির দাফন-কাফনে আমি নিজে উপস্থিত ছিলাম। তার অকালমৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”