বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ন
পাসপোর্ট প্রাপ্তির আবেদনে আবেদনকারীর পাশাপাশি অবশ্যই নিকট আত্মীয় কারো মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা এবং আবেদনকারীর পূর্বের পাসপোর্ট থাকলে তা প্রদর্শনের জন্য আবেদনকারীদের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুবুর রহমান।
আবেদনে দুটি মোবাইল নম্বর উল্লেখ করার কারণ ব্যাখ্যা করে মাহাবুবুর রহমান বলেন,
বিগত সময়ে আবেদনে শুধুমাত্র একটি মোবাইল নম্বর উল্লেখ করার ফলে বর্তমানে আমাদের অফিসে গত দুই থেকে আড়াই বছর আগের প্রায় ৮’শ থেকে ৯’শ পাসপোর্ট জমা পড়ে আছে। আবেদনে উল্লেখ করা মোবাইল নম্বর গুলো বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এজন্যে আবেদনপত্রে আবেদনকারীর পাশাপাশি তার নিকট আত্মীয় কারো মোবাইল নম্বর উল্লেখ থাকাটা জরুরি। এতে করে আবেদনকারীরকে পাওয়া না গেলে আত্মীয়ের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সত্যসাপেক্ষে পাসপোর্ট হস্তান্তর করা সহজ হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দীর্ঘদিন যাবত জনবল সংকটের মধ্যেও সময়মতো পাসপোর্ট হাতে পাচ্ছে গ্রাহকরা।
প্রতিদিন গড়ে দুই’শ থেকে আড়াই’শ আবেদন জমা পড়ে। জনবল সংকটের কারণে আবেদন যাচাই-বাছাই এবং আঙ্গুলের ছাপ সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মকর্তা কর্মচারীদের।
জনবল সংকটের মধ্যে জরুরি তিনটি পদ দীর্ঘদিন যাবত শূন্য রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে। শূন্য পদ গুলো পূরণ হলে সেবার মান আরো বৃদ্ধি পাবে বলে অফিস সূত্রে জানা গেছে।
চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সহকারী পরিচালক হিসেবে ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর যোগদান করেন মো.মাহাবুবুর রহমান। তিনি যোগদানের পর নিজ থেকে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেন। যার ফলে সেবার মান এবং সময়মতো পাসপোর্ট হাতে পাচ্ছে গ্রাহকরা।
এবিষয়ে সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুবুর রহমান জানান,অনেক দিন থেকেই জনবল সংকটের মধ্যেও সময়মতো গ্রাহকের হাতে পাসপোর্ট দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। জনবল চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এখানে জরুরি তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। যার ফলে সময়মতো সেবা দিতে কর্মকর্তা কর্মচারীদের হিমসিম খেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন,জনবল সংকটের মূল কারণ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নতুন করে পাসপোর্ট সেবা চালু করা হয়েছে। ওই সেবা কেন্দ্র গুলোতে দেশের বিভিন্ন অফিস থেকে কর্মকর্তা কর্মচারীদের সংযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আমাদের অফিস থেকেও কয়েকজনকে সেখানে সংযুক্ত করায় এখানে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি জানান,এখানে প্রতিদিন গড়ে দুই’শ থেকে আড়াই’শ আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদন যাচাই-বাছাই, আঙ্গুলের ছাপ,সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ শেষে করে সময়মতো গ্রাহকের হাতে পাসপোর্ট বুঝিয়ে দেয়া অনেক কঠিন একটা কাজ।
তিনি আরো বলেন,গত দুই থেকে তিন বছরের পুরনো প্রায় ৮’শ থেকে ৯’শ পাসপোর্ট আমাদের অফিসে জমা পড়ে আছে। এসব পাসপোর্টের গ্রাহকদের কোন হদিস মিলছে না। আবেদন দেয়া মোবাইল নাম্বার গুলো বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এসব পাসপোর্টের গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি চিঠি পাঠিয়েছি। তাতেও কোন সাড়া পাচ্ছি না। এছাড়া সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি।
তিনি বলেন,নতুন করে যেসব গ্রাহক আবেদন করবেন তারা যেন আবেদনে নিজের মোবাইল নাম্বারের পাশাপাশি অবশ্যই নিকট আত্মীয় কারো মোবাইল নাম্বার আবেদনে উল্লেখ করেন। এতে করে কোন কারণে মোবাইল ফোনে আবেদনকারীকে পাওয়া না গেলেও তার নিকট আত্মীয়ের সাথে যোগাযোগ করে সময়মতো পাসপোর্ট হস্তান্তর করতে পারি। এতে করে মাসের পর মাস কোন গ্রাহকের পাসপোর্ট আমাদেরকে সংরক্ষণ করতে হবে না।
সরেজমিনে গিয়ে নতুন পাসপোর্ট পাওয়া দুইজন গ্রাহক, মোঃ বাদশা কারিগর ও দেলোয়ার হোসেনের সাথে কথা হলে তারা জানান,আমরা আবেদনের ২০দিনের মধ্যেই পাসপোর্ট হাতে পেয়েছি। কোন রকম ঝামেলা হয়নি,তবে আবেদন জমা দেয়া, আঙ্গুলের ছাপ,আই কন্ট্রাক, নেয়ার সময় কিছুক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। এছাড়া অন্য কোন ঝামেলায় পরতে হয়নি। সময়মতো পাসপোর্ট হাতে পেয়ে তারা দুজন সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন