বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

দুর্নীতির মহাজন কচুয়া পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম

মো.মজিবুর রহমান রনি :

মাথায় টুপি আর টাকনুর উপর পেন্ট রেখেছেন লম্বা দাঁড়ি, সুন্নতের কোন কিছুই যেন কমতি নেই। ধর্মীয় লেবাসে মোড়ানো শরীর, দেখে মনে হয় অনেক বড় প্রখ্যাত মাওলানা, নামাজেও থাকেন প্রথম সাড়িতে।ওনাকে দেখে নিজকে তুচ্ছ মনে হবে। কিন্তু এই সুন্দর লেবাসের আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর দূর্নীতির গল্প।
বলছিলাম চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলামের কথা। আগাগোড়ার ধর্মপ্রাণ মনে হলেও ভেতরে পুরোই দূর্নীতি আর দুষ্কৃতিতে ভরা।পূর্বের কর্মস্থল দেবিদ্ধার থেকে এসেছেন পালিয়ে। সেখানের ৬/৭ বছরের কর্মজজ্ঞে রয়েছে কোটি কোটি টাকার দূর্নীতির অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে নারী কেলেঙ্কারির মত গুরুতর ঘটনার। বর্তমান কর্মস্থল কচুয়া পৌরসভা ভবনের অফিস কক্ষে বানিয়েছে নিজের বাসস্থান ও খাবারের হোটেল। চাকুরী জীবনের শুরুতে দীর্ঘ দিন কচুয়ায় কর্মজীবনে গড়ে তুলেছেন শক্ত সিন্ডিকেট। তাদের সমঝোতায় চলে নানান দূর্নীতি ও অনিয়ম। সর্বশেষ অফিস আদেশ মোতাবেক ২০২৪ সালের ৮-ই অক্টোবর বদলি হয়ে যোগ দেন কচুয়া পৌরসভায়। একই সময়ে কচুয়ার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তাও কর্মরত ছিলেন। ২ মাস দুইজন নির্বাহী দিয়ে চলে কচুয়া পৌরসভার কার্যক্রম। সম্পতি সময়ে কচুয়া পৌরসভার সুপার মার্কেটের ২য তলায় দোকান বরাদ্দের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। সেখানের দূর্নীতির অনুসন্ধান করতে গিয়ে কেচু খুড়তে বেরিয়ে আসে সাপ।মাত্র এক বছরে তার দূর্নীতির ফিলিস্তি যেন পাহাড় সম। যে দূর্নীতির চাপে এখন দিশেহারা হয়ে বদলী হতে চালিয়েছেন নানান তদবির। তত দ্রুত এখন থেকে বদলি হয়ে বেরুতে পারবেন তখনি যেন হাপ চেড়ে বাঁচবেন।
অনুসন্ধানে জানা যায় বর্তমান নির্বাহী কর্মকর্তা মো.ফখরুল ইসলাম ১৯৯৮ সালে কচুয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলে তখন তিনি সচিব হিসেবে যোগদান করেন।তখন থেকেই জড়িয়ে পড়েছেন নানান দূর্নীতি আর অনিয়মে। দীর্ঘদিন দিন একই পৌরসভায় দায়িত্ব পালন করে নিজেই হয়ে উঠেন একজন অধিপতি।

দেবিদ্বার থেকে যেভাবে আসেন কচুয়ায়ঃ

২০২৪ সালের ৫-ই আগস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর ছাত্র জনতার মুখোমুখি হওয়া থেকে নিজেকে বাঁচাতে ছুটি ছাড়াই দীর্ঘ দিন অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি।
এরপর পৌর মেয়র অপসারণের পর গত ১৯ আগস্ট পৌর প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হানুল ইসলাম। ঐদিন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো.ফখরুল ইসলাম অফিসে হাজির হন। পরদিন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতা অনিয়ম ও দূর্নীতি নিয়ে পৌর প্রশাসনের সাথে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিলে তিনি পালিয়ে যান। এর পর দীর্ঘদিন ছুটি ছাড়া অফিসে অনুপস্থিত থাকলে গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর অফিসে আসেন ফখরুল ইসলাম। খবর পেয়ে ছাত্র জনতা ঐদিন বিকেলে অফিসে গিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং বিভিন্ন অনিয়ম এবং দূর্নীতি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি পৌর প্রশাসকের দোহাই দিয়ে পর দিন ৪ তারিখ সকল তথ্য দিবেন বলে জানান। এবং রাতের বেলায় দেবিদ্বার থেকে পালিয়ে যান। মন্ত্রণালয়ের জর তদবির করে কয়েকদিনের মধ্যে কচুয়া পৌরসভায় নিজের বদলির আদেশ করিয়ে নেন।

চলবে

নিউজটি শেয়ার করুন

All rights reserved © meghnapost.com