বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩০ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

চাঁদপুরে কাবিখার ১০৩ মেট্টিক টন চাল-গম নিয়ে প্রকল্প কর্মকর্তার তাল-বাহানা !

মো.মজিবুর রহমান রনি:

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে কাবিখার ১শ ৩ মেট্টিক টন চাল-গম কাগজে-কলমে সরকারী কাজে ব্যায় হলেও পড়ে আছে খাদ্য গুদামে। কোন প্রকার প্রজেক্ট ছাড়াই ৩০ ডিসেম্বর তড়িঘড়ি করে খাদ্য বিভাগকে ছাড়পত্র দেয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। ৩১ ডিসেম্বর প্রজেক্ট ব্যায়ে সয়মসীমা শেষ হলেও গুদামে পড়ে থাকায় এখন প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

নির্দিষ্ট সময়ে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজে সরকারী বরাদ্দ ব্যায় না করা দুর্নীতি ও অনৈতিক কাজের সামিল বলেছেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি।

হাজীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি অপারগতা জানান। তবে পরিচয় গোপন রাখা শর্তে জানান, ‘ ৩০ তারিখ হলো লাস্ট ডেট। কাটাট ডেট। এর মধ্যে যদি আপনি এটা খরচ না দেখান, তাহলে এই মালটা দেখাতে পারবেন না।

এটা যারা লুকোচুরি করতাছে, কিসের জন্য লুকোচুরি করছে? আমার লুকোচুরির দরকার নাই।

বাস্তবিক সত্য যেটা, আমি সত্যি কথাটা বললাম- মনে করেন যে আমার এখানে মাল আছে, আমি ডিও পাবো, ডিওসহ সবকিছুতে সই হবে। সই হবার পরে আমি কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসা করবো- আমি সব কিছু পাইছি- মালটা দিবো কিনা? যদি বলে ইয়েস, তাহলে আমি মাল দিবো। তার আগে দিবো না। আপনি আমারে জেল দেন, এহানে মাইরা রেখে যান আমার দুঃখ নাই।’

-এভাবেই ক্যামেরার আড়ালে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা আশেকুর রহমান কাবিখার বরাদ্দ লুটপাটের কারসাজির চিত্র তুলে ধরেন উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারের জন্য প্রথম পর্যায়ে ৯৬ মেট্টিক টন চাল ও ৯৬ মেট্টিক টন গমসহ মোট ১শ ৯২ মেট্টিক টন বরাদ্দ দেয় দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এই বরাদ্দ গেল ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করার সময়সীমা বেঁধে দেয় সরকার।

অথচ তড়িঘড়ি করে গেল ৩০ ডিসেম্বর হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেকুর রহমান খাদ্য কর্মকর্তার কাছে একটি ছাড়পত্র পাঠায়। সেই ছাড়পত্র উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাঠায় খাদ্য কর্মকর্তা। সেখানে কোন প্রজেক্ট উল্লেখ করা না থাকায় এখনও খাদ্যগুদামে পড়ে আছে কাবিখার ১শ ৩ মেট্টিক টন চাল ও গম।

তবে কাবিখার প্রথম পর্যায়ের সব বরাদ্দের ছাড়পত্র দিয়েছেন বলে দাবী করলেও ৩০ ডিসেম্বরের স্বাক্ষরিত এই বরাদ্দের প্রসঙ্গটি অস্বীকার করেন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেকুর রহমান।

তিনি জানান, ‘ডিসেম্বরের ৩০ তারিখে আমরা ছাড়পত্র দেইনি। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আমরা ছাড়পত্র দিয়েছি। আমি কোন স্বাক্ষরিত চিঠি দেইনি।

২০২৫-২৬ অর্থ বছরে প্রথম পর্যায়ে ৯৬ মেট্টিকটন চাল ও ৯৬ মেট্টিক টন গম আসছে। ৯৬ মেট্টিকটন চাল ও ৯৬ মেট্টিক টন গম চলমান আছে। এবং আমরা ওই প্রেক্ষিতেই ছাড়পত্র দিয়েছি। প্রকল্প ওয়ারী।’

অপরদিকে প্রথমে পর্যায়ে পুরো ডিসেম্বর মাসে মাত্র ৭১ টনের ছাড়পত্র পেয়েছেন বলে দাবী খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার মিলির।

তিনি জানান, ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস থেকে আমাকে যতটুকু ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে, আমি ততটুকু ডিও আমরা ইস্যু করেছি। তার পরিমাণ হচ্ছে আনুমানিক ৭১ টন। পুরো ডিসেম্বর মাসে।

৩০ ডিসেম্বরের স্বাক্ষরিত ছাড়পত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘না এ বিষয়ে কোন ডিও ইস্যু করা হয়নি।’

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দকৃত চাল ও গম নির্দিষ্ট সময়ে জনসাধারণের কাজে ব্যায় না করে তড়িঘড়ি করে ছাড়পত্র দেয়ার উদ্দেশ্যটা দুর্নীতির কারসাজি বলেন মন্তব্য করছেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. কাজী হাসেম।

তিনি বলেন, ‘এখানে যেটা করছে, সেটা নিয়ম বর্হিভূত। যেই মেয়াদের মধ্যে বিতরণ করার কথা ওই মেয়াদে বিতরণ না করাটা একটা অন্যায়। এটা দুর্নীতির মধ্যে পড়ে। আপনি ছাড়পত্র কবে নিবেন কি আশো বিষয়- এগুলো কমপ্লিট করে যে নির্দিষ্ট মেয়াদ আছে। এই নির্দিষ্ট মেয়াদের আগেই তো জনসাধরণের সেবার জন্য বিতরণ করা উচিত ছিল।

কাজেই এটা আমি মনে করি যে, অনৈতিক কাজ হইছে। নিয়ম বর্হিভূত কাজ হইছে। আমি আশা করবো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ- যারা প্রশাসনে আছেন- তারা এটার প্রতি সু-দৃষ্টি দিবেন- যাতে সাধারণ জনগণ এই সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়। এবং তাদের অধিকার থেকেও যেন বঞ্চিত না হয়।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি খোঁজ নিবেন বলে জানান। তবে, ডিসেম্বর মাসের শুরুতে কাবিখার প্রথম পর্যায়ের ১ম কিস্তিতে ৩৪ টি প্রজেক্টে চাল ও গমের সমন্বয়ে মাত্র ৬৬ মেট্টিক টন বন্টন করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

All rights reserved © meghnapost.com