বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

হাজীগঞ্জের ডাকাতিয়া ব্রীজের জ্বলছে না সড়কবাতি, বেড়েছে মাদক সেবীদের আড্ডা

নুর মোহাম্মদ পাটোয়ারী :

  চাঁদপুরের প্রথম শ্রেণির পৌরসভা ও বাণিজ্যিক শহর হিসাবে খ্যাত হাজীগঞ্জ। এই শহরের অধিকাংশ এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সড়কবাতি থেকেও যেন নেই। অনেক জায়গায় সড়কবাতি স্থাপনের জন্য ল্যাম্পপোস্ট থাকলেও, সেগুলোতে স্থাপিত বাতিগুলো দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে আছে।  সড়কবাতি না থাকায় শহরবাসীকে বাজারের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আলো ও সড়কে চলাচলরত যানবাহনের লাইটে সাময়িক আলোয় আলোকিত।

বিশেষ করে সড়কবাতি না থাকায় পাড়া-মহল্লার অনেক এলাকায় সন্ধ্যা নামলেই ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে আসে। বাসিন্দাদের চলাচলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ঘটছে চুরি-ছিনতাই ও মাদক সেবীদের আড্ডা। এরপরও এ বিষয়ে নজর নেই পৌর কর্তৃপক্ষের। তবে অভিযোগ পেলে বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করবেন বলে জানান পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান।

সরজমিনে দেখা যায় : বর্তমানে সড়কগুলোতে যে পরিমাণ সড়কবাতি জ্বলছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। মূল শহর, বাণিজ্যিক এলাকা ও আবাসিক এলাকাগুলোতে সড়কবাতি কিছুটা দেখা গেলেও বর্ধিত পৌরসভার পাড়া ও মহল্লার অধিকাংশ সড়কে সড়কবাতি নেই।

বিশেষ করে হাজীগঞ্জ রামগঞ্জ ব্যস্তময় সড়কের ডাকাতিয়া নদীর উপর দুই পাশের সেতুর অধিকাংশ বাতি জ্বলে না। সন্ধ্যা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত কয়েকটি চটপটির দোকানের আলোতে মানুষ চলাচল করে আসলেও তার পরে আড্ডা জমে মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের। ইতিপূর্বে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও মূলত দায়ী করছে সড়ক বাতি না থাকাকে।

পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আক্কাস মিয়া, রফিকুল ইসলাম ও শ্যামল সাহা বলেন, তাঁদের এলাকায় প্রায় ১০ বছর আগে সড়কের পাশে কিছু দূর পরপর কিছু ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা হয়। ল্যাম্পপোস্টে বাতি লাগানোর কয়েক বছর পর প্রায় বাতি নষ্ট হলে আবার লাগানো হয়। কিন্সতু গত ৬ মাস ধরে প্রায় বাতি জ্বলে না আর তা লাগানোর উদ্যোগ দেখা যায়নি। সড়কবাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হয়। অথচ প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে শহরের অন্য বাসিন্দাদের মতো তাঁদেরকেও কর ঠিকই দিয়ে আসতে হচ্ছে।

এদিকে রামগঞ্জ হাজীগঞ্জ চলাচলকারী পথচারীরা বলেন : সড়কের খুটিতে জ্বলছে না বাতি। যে কারনে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে চলাচল করে আসছে। আর এতে বেড়েছে কিশোর গ্যাং ও মাদক সেবীদের দৌরাত্ম।

হাজীগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের বিদ্যুৎ শাখা থেকে জানা যায়, হাজীগঞ্জ পৌরসভায় বিভিন্ন সময় মিলে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা হয়।

হাজীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, পৌরসভার কয়েকটি ব্রীজের উপর ঈদের আগে সড়কবাতি নতুন করে প্রতিস্থাপন করা হবে। তাছাড়া সড়কবাতি নষ্ট হলে আমরা
অভিযোগ পেলে লাগিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন,  পৌরসভার সড়কগুলোতে সড়কবাতি সমস্যা সমাধানের জন্য প্রতি মাসে নষ্ট লাইট লাগানো হচ্ছে, তার পরেও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে তাগিদ দেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

All rights reserved © meghnapost.com