বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন
রাজধানীর জ্বালানি বাজার এখন টালমাটাল। অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ঝোলানো হয়েছে ‘তেল নেই’ বোর্ড, আর যেখানে সরবরাহ আছে সেখানে দেখা যাচ্ছে মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন।
তেলের জন্য সাধারণ মানুষের এই হাহাকার কমাতে এবার ডিজিটাল সমাধানের পথে হাঁটছে সরকার।
সব ধরনের যানবাহনের জন্য ‘ফুয়েল কার্ড’ বা জ্বালানি কার্ড চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ চরমভাবে ব্যাহত হবে।
এর ফলে আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।
বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও দেশের বাজারে হুটহাট দাম বাড়ানো সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে তেলের অপচয় রোধ, কালোবাজারি বন্ধ এবং সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে ফুয়েল কার্ড চালুর বিকল্প দেখছে না সরকার।
প্রস্তাবিত এই পদ্ধতিতে প্রতিটি মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, বাস বা ট্রাকের জন্য একটি করে নির্দিষ্ট কার্ড থাকবে। এই কার্ডে থাকবে একটি বিশেষ কিউআর (QR) কোড।
চালকরা নির্দিষ্ট পাম্পে গিয়ে কোড স্ক্যান করে তাদের পরিবহনের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করতে পারবেন। এর ফলে এক গাড়ি বারবার তেল নিয়ে মজুত করতে পারবে না।
তবে এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করতে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
এটি অনেকটা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মতো কাজ করবে। সাধারণত বড় কোম্পানিগুলো তাদের গাড়িবহরের খরচ নিয়ন্ত্রণে এটি ব্যবহার করে।
এর মূল সুবিধাগুলো হলো:
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল এই ব্যবস্থাপনা চালু হলে তেলের বাজারে অস্থিরতা কমবে এবং প্রকৃত ব্যবহারকারীরা হয়রানিমুক্তভাবে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন।
তবে বর্তমান সংকটকালীন সময়ে পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সোর্স : কালবেলা