বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে উধাও শাহরাস্তি উপজেলার মর্ডান বহুমুখী সমবায় সমিতি

মোঃ জসিম উদ্দিন :

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার মর্ডান বহুমুখী সমবায় সমিতি। প্রায় সাড়ে ৩ শ গ্রাহক নিয়ে চলা এ সমিতি হঠাৎ করেই উধাও। গ্রাহকদের প্রায় ১ কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন। গ্রাহকদের সাথে এমন প্রতারণার ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এর কিছুই জানে না উপজেলা বা জেলা সমবায় কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

২০০৮ সালে উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে রেজিষ্ট্রেশন নিয়ে যাত্রা শুরু করে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ভোলদীঘী মর্ডান বহুমুখী সমবায় সমিতি। একযুগ সমিতির কার্যক্রম ঠিকঠাক থাকলেও ২০২১ সালে এসে থমকে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। সাড়ে ৩শ গ্রাহকের জমানো প্রায় ১ কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন।

ভোলদীঘী গ্রামের বিল্লাল হোসেনের এমন প্রতারণায় ভুক্তভোগী নিজ গ্রাম সহ পাশ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দারা এখন যেকোনো মূল্য ফেরত চান তাদের কষ্টে অর্জিত অর্থ।

ভোলদীঘী গ্রামের ভুক্তভোগী জাকির হোসেন বলেন, নিজের এবং পরিবারের ২১ লাখ টাকা সঞ্চয় করে এ সমিতিতে। টাকা চাইতে গেলে দেই-দিচ্ছি বলে এক পর্যায়ে টাকা নিয়ে উধাও তারা।

একই পরিস্থিতির শিকার এ গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ির আব্দুল হক, খাদিজা বেগম ও জাহানারা বেগম। পরিবারের শেষ সম্বলটুকু নিরাপদের আশায় রেখে তা পাওয়া নিয়ে এখন অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন তারা।

বিল্লাল হোসেনের এমন প্রতারণার শিকার জাহাঙ্গীর আলম, আমেনা বেগম ও ঝড়না বেগম। যেকোনো মূল্যে এখন তাদের কষ্টে অর্জিত অর্থ ফেরত চান তারা।

অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন আত্মগোপনে থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে কথা হয় এই সমিতির সভাপতি দুলাল পাটোয়ারীর সাথে।

এ সমিতির গ্রাহকদের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেনের আত্মগোপনের কথা শিকার করে বলেন, বিল্লাল পালিয়ে যাওয়ার পরে গ্রাহকরা সভাপতির বিরুদ্ধে আদালতে ৪টি মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে দুইটি মামলা চলমান আর সমিতির টাকা নিয়ে আত্মগোপনে থাকায় বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে ১টি মামলা চলমান রয়েছে। বিল্লাল হোসেন ফিরত আসা পর্যন্ত এ টাকার বিষয়ে কোনো সমাধান দেখছেন না তিনি।

এদিকে মর্ডান বহুমুখী সমবায় সমিতি উপজেলা সমবায় কার্যালয় কর্তৃক রেজিষ্ট্রেশন থাকার পরও গ্রাহকদের সাথে যে প্রতারণা করা হয়েছে তার কিছুই জানেন না সমবায় কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। সাংবাদিকের কাছে জানতে পেরে ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. মোতালেব খান।

তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে এই সমিতি সরকারের তালিকায় অকার্যকর হিসেবে রয়েছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

All rights reserved © meghnapost.com