১০ বছর পার করে এগারোতে চলছে ময়মনসিংহ বিভাগের বয়স। এই দীর্ঘ সময়ে নেই বিশেষ কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন। পরিবর্তন বলতে যা চোখে পড়ে, তা কেবল শহরের ভেতর সরু সড়কে বিরক্তিকর যানজট আর বহুতল ভবন। ১১ বছর ধরে বিভাগীয় কার্যালয়গুলো চলছে আগের সেই ‘ধার’ করা ভবনেই।
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত ১০ বছর পার করে এগারোতে চলছে ময়মনসিংহ বিভাগের বয়স। এই দীর্ঘ সময়ে নেই বিশেষ কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন। পরিবর্তন বলতে যা চোখে পড়ে, তা কেবল শহরের ভেতর সরু সড়কে বিরক্তিকর যানজট আর বহুতল ভবন। ১১ বছর ধরে বিভাগীয় কার্যালয়গুলো চলছে আগের সেই ‘ধার’ করা ভবনেই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নতুন বিভাগীয় শহর বাস্তবায়নের পথে তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ রয়েছে। চ্যালেঞ্জগুলো হলো অধিগ্রহণ নিয়ে মামলা, অধিগ্রহণ করা জমি দুর্গম চরে হওয়ায় সেখানে যাতায়াতের ব্যবস্থা ও অধিগ্রহণ করা জমিতে মাটি ভরাট।
ময়মনসিংহের নাগরিক সংগঠন ‘নাগরিক ফোরামের’ সমন্বয়ক সরকার আজিজ বলেন, বিভাগ প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পার হলেও কাঙ্খিত পরিবর্তন নেই ময়মনসিংহের। ব্রহ্মপুত্রের ওপারে নতুন শহরের যে পরিকল্পনা, তারও কোনো অগ্রগতি নেই। আমরা চাই দ্রুত দৃশ্যমান পরিবর্তন, যা ময়মনসিংহবাসীর জন্য সুফল বয়ে আনবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে দেশের অষ্টম বিভাগ হিসেবে ময়মনসিংহের প্রতিষ্ঠা। এর পরই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ছয়টি গ্রামে মোট চার হাজার ৩৩৬ একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করে। ওই জমিতে ছিল অসংখ্য বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা। এ কারণে জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে সেখানকার মানুষ। একপর্যায়ে সেখানে জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা থেকে সরে আসে সরকার।
পরে কাছাকাছি এলাকায় ৯৪৫ একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়। ২০২২ সালে সেখানে শুরু হওয়া অধিগ্রহণ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ৪২ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। ৮০০ কোটি টাকার মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলার পাড়ালক্ষ্মীর আলগী, চর গোবিন্দপুর, চর ঈশ্বরদিয়া, চর সেহড়া এবং জেলখানার চরে পড়েছে এ ৯৪৫ একর জমি।
সূত্র জানায়, অধিগ্রহণ করা জমিতে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। পুরো এলাকায় মাটি ভরাট করতে প্রয়োজন ৫০ লাখ কিউবিক মাটি। এরমধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বিনামূল্যে পাওয়া তিন লাখ কিউবিক মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। কিন্তু বাকি মাটি পাওয়া নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে সংশয়। অধিগ্রহণ করা এলাকাটি ব্রহ্মপুত্রের দুর্গম চর। মাটি পরিবহনের জন্য ওই এলাকায় এখনও নির্মাণ করা হয়নি উপযুক্ত সড়ক। এমনকি প্রকল্প এলাকায় যাওয়ার জন্য নির্মাণ করা হয়নি ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর প্রস্তাবিত সেতু।
জমি অধিগ্রহণ প্রকল্পের পরিচালক সাইফুল রহমান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, একাধিক মামলা থাকায় জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বাধার মুখে পড়েছে। মামলার নিষ্পত্তি না হলে এ কাজের অগ্রগতি নিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।
সম্প্রতি ব্রহ্মপুত্র নদের জেলখানা ঘাট দিয়ে নদী পার হয়ে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদের চরে বড় একটি কাঁচা সড়ক পাকা করার কাজ চলছে। কিছু অংশে সুরকি বিছানো হলেও বাকি অংশ এখনও কাঁচা। কাঁচা সড়কটির কোথাও কোথাও রয়েছে বড় বড় গর্ত। দেখা যায়, বেড়িবাঁধে অধিগ্রহণ হওয়া জমি অনেক নিচুতে। ওই এলাকার বাসিন্দা তোফাজ্জল বলেন, অধিগ্রহণ হওয়া এলাকা বর্ষাকালে পানিতে তলিয়ে যায়। ভরাটের কাজ করতে অনেক মাটি লাগবে।
গণপূর্ত বিভাগের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয় সূত্র জানায়, নতুন এ বিভাগীয় শহরের পরিকল্পনায় রয়েছে, সম্প্রসারিত সড়ক, বিভাগীয় কার্যালয়, বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন, অধিগ্রহণে উচ্ছেদ হওয়া ৩৪২টি পরিবারের পুনর্বাসন। প্রকল্পে এগুলো প্রাধান্য পাবে। এ ছাড়া আধুনিক বিভাগীয় শহরের পরিকল্পনায় রয়েছে আধুনিক নভোথিয়েটার, আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার ও আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম।
গণপূর্ত বিভাগের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রকল্পের শুরুতে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৪২টি পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য ভবন হবে। পরে হবে বিভাগীয় কার্যালয়গুলো। নভোথিয়েটার আর স্টেডিয়ামের মতো স্থাপনা পরে হতে পারে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে দেরি হবে বলে মনে হচ্ছে।
সোর্স : কালের কণ্ঠ