বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
মেঘনাপোস্ট ডেস্ক :
হাজীগঞ্জ পৌরসভায় ২০ বছর একই পদে সহকারী প্রকৌশলী ইদ্রিস মিয়া: বদলি না হওয়া নিয়ে প্রশ্নচাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভায় দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী (সিভিল) প্রকৌশলী ইদ্রিস মিয়া।
দীর্ঘ সময় একই দপ্তরে বহাল থাকায় তার দায়িত্ব পালন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং সরকারি বদলি নীতিমালা বাস্তবায়ন নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই পদে ও একই পৌরসভায় কর্মরত থাকার পেছনে কোনো অদৃশ্য প্রভাব বা বিশেষ সুবিধা কাজ করছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে।
জানা যায়, ইদ্রিস মিয়া ২০০৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর হাজীগঞ্জ পৌরসভায় যোগদান করেন। এরপর থেকে টানা প্রায় ১৯ বছর ৮ মাস ধরে তিনি একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এর আগে তিনি রাজবাড়ীর পাংশা পৌরসভায় ২০০০ সালের ১২ এপ্রিল থেকে ২০০২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌরসভায় ২০০২ সালের ৭ জুলাই থেকে ২০০৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
প্রচলিত প্রশাসনিক নীতিমালা অনুযায়ী, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন সাধারণত নিরুৎসাহিত করা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনায় নির্দিষ্ট সময় পরপর বদলি ও পদায়নের মাধ্যমে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
বিশেষ করে প্রকৌশল, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং আর্থিক লেনদেন সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘদিন একই ব্যক্তি দায়িত্বে থাকলে স্বার্থের সংঘাত ও অনিয়মের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও প্রশাসনিক নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সাধারণভাবে ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে বদলি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হলেও ইদ্রিস মিয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে বহাল থাকা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্প, টেন্ডার কার্যক্রম, রাস্তা-ঘাট নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে অনিয়ম এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও উঠেছে বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ গত ৮ মে হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রবাসী শরীফ হোসেনের জমিতে বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে পৌরসভার ড্রেন নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে বলা হয়, পূর্ব নোটিশ ছাড়াই কাজ পরিচালনা, সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর এবং লুটপাটের মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী তাহফীমা আক্তার হাজীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী ইদ্রিস মিয়া বলেন,
“বদলিও হয় না, আমিও যাই না।”
হাজীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ইবনে আল জাহেদ হোসেন বলেন, সরকারি বিধান অনুযায়ী ৩ বছর পর বদলির নিয়ম থাকলেও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে তা অনেক ক্ষেত্রে পুরোপুরি অনুসরণ করা হয় না।
সব মিলিয়ে হাজীগঞ্জ পৌরসভায় দীর্ঘদিন একই পদে দায়িত্ব পালন, বদলি নীতিমালা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন এবং সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো নতুন করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।