বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

নির্বাচনহীন ১০ বছর: কার নিয়ন্ত্রণে হাজীগঞ্জ দলিল লিখক সমিতি ?

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দুই বছরের জন্য গঠিত একটি কমিটি প্রায় এক দশক ধরে বহাল রয়েছে। নতুন নির্বাচন কিংবা দায়িত্ব হস্তান্তর ছাড়াই হাজীগঞ্জ দলিল লিখক সমিতির সভাপতি আ. গাফফার ও সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সমিতির একাধিক সদস্যের দাবি, কার্যত সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেনের একক কর্তৃত্বেই সংগঠনের অধিকাংশ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সমিতির সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কার্যকরী কমিটির সভা কিংবা সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডও দৃশ্যমান নয়। তবে আর্থিক কার্যক্রম চলমান থাকায় সংগঠনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেলা পর্যায়ের নেতাদের সহায়তায় আ. গাফফারকে সভাপতি এবং বিল্লাল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ওই কমিটির মেয়াদ ছিল দুই বছর। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নতুন নির্বাচন বা কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ওই কমিটি ঘোষণার কিছুদিনের মধ্যেই সংগঠনের অভ্যন্তরে বিরোধ দেখা দেয়। পরবর্তীতে সিরাজুল ইসলামকে সভাপতি এবং শাহাদাৎ হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে আরেকটি কমিটি গঠিত হয়। তবে বিকল্প ওই কমিটি কয়েকদিন সক্রিয় থাকলেও পরে তাদের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, জেলা ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেনের প্রভাবের কারণে বিকল্প নেতৃত্ব টিকে থাকতে পারেনি।

সমিতির কয়েকজন সদস্যের ভাষ্য, সভাপতি আ. গাফফার নামমাত্র দায়িত্ব পালন করলেও সংগঠনের অধিকাংশ সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম পরিচালিত হয় সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেনের মাধ্যমে। সংগঠনের প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়েও তাঁর একক প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দলিল লিখক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন, সভা কিংবা সাংগঠনিক কার্যক্রম না থাকলেও কেউ প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলতে সাহস পান না। তাদের অভিযোগ, বিল্লাল হোসেনের সমালোচনা করলে তাঁর ভাই হারুনুর রশিদের অপ্রীতিকর আচরণের মুখোমুখি হতে হয়। এ কারণেই অনেক সদস্য নীরব থাকেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় দলিল লিখক সমিতির এক নেতা বলেন, “২০১৬ সালে আ. গাফফার ও বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে কমিটি গঠনের পর হাজীগঞ্জে আর কোনো নতুন কমিটি হয়নি।” তবে দীর্ঘ ১০ বছরেও কেন নির্বাচন বা নতুন কমিটি গঠন করা হয়নি, সে বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

সমিতির সদস্যদের দাবি, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে নতুন নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হোক। তাদের মতে, এর মাধ্যমে সংগঠনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত হবে।

প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সভাপতি আ. গাফফার ও সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

All rights reserved © meghnapost.com