বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

হাজীগঞ্জে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারস্থ শাহমিরাণ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত লামিয়া আক্তার তুবা (২১) হাজীগঞ্জ উপজেলার ১১নং পশ্চিম হাটিলা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের নোয়াপাড়া গ্রামের বেপারী বাড়ির ওমান প্রবাসী মো. পারভেজ হোসেনের স্ত্রী। তিনি একই গ্রামের লিটন হোসেন মিয়াজি ও ফাতেমা বেগমের বড় মেয়ে।

নিহতের মা মোসা. ফাতেমা বেগম হাজীগঞ্জ থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ১৯ জুন শুক্রবার প্রসব বেদনা উঠলে তার মেয়ে লামিয়া আক্তার তুবাকে সুস্থ অবস্থায় শাহমিরাণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করালেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তার জ্ঞান ফেরেনি। একপর্যায়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলার কারণে তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে শাহমিরাণ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. ওয়াসীক ফয়সাল, চিকিৎসক ডা. আবুল কালাম আজাদ, হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী মোশারফ হোসেন পাটওয়ারী, ডিউটি ডাক্তার সাইফুল ইসলাম, ম্যানেজার মাসুদ, ডা. সাজ্জাদ হোসেন, পরিচালক আলমসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়েছে।

স্বজনদের দাবি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিবর্তে অন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে অপারেশন এবং চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই তুবার মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তুবা একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। পরে তাকে ওয়ার্ডে নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখা দিলে পুনরায় অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন।

এ ঘটনার পর স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি শান্ত করতে সহযোগিতা করেন।

হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. এ.কে. আজাদ জানান, রোগীকে সুস্থ অবস্থায় ওয়ার্ডে দেওয়া হয়েছিল। সন্তানকে দুধও খাওয়ানো হয়। পরে হঠাৎ করে শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে হার্টজনিত কোনো সমস্যা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানভীর হাসান বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। প্রয়োজনীয় তদন্তের জন্য সিভিল সার্জনের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল মান্নান জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের লিখিত অভিযোগ ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

All rights reserved © meghnapost.com