বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৬ অপরাহ্ন
নুর মোহাম্মদ পাটোয়ারী :
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার অন্যতম প্রাচীন ও ব্যস্ততম হাজীগঞ্জ-রঘুনাথপুর (আরএইচডি-জিসি) সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় হাজীগঞ্জ বিশ্বরোড থেকে সুহিলপুর বাজারের উত্তরাংশ পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচঢালাই উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এতে সড়কটি বর্তমানে কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
![]()
সরেজমিনে দেখা যায়, হাজীগঞ্জ-রঘুনাথপুর (রোড কোড-৪১৩৪৯২০০৩) সড়কের রেললাইনের উত্তর পাশের কাজিরগাঁও থেকে সুহিলপুর বাজার পর্যন্ত শতাধিক স্থানে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল, সিএনজি ও ইজিবাইক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন রাতে একই সড়কের বাড্ডা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় একটি সিএনজির পাঁচ যাত্রীর মধ্যে একজন নিহত হন। আহত অপর চারজন বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সড়কটিতে চলাচলকারী কয়েকজন ইজিবাইক চালক জানান, এটি এখন আর সড়ক নয়, যেন একটি মরণফাঁদ। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পরিবহন করতে হয়। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান তারা।
সুহিলপুর গ্রামের বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, “খানাখন্দের কারণে প্রতিনিয়ত যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ছে। অনেক মানুষ আহত হচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

একই সড়ক ব্যবহার করে একটি কলেজ, একটি মাদ্রাসা, দুটি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ হাজীগঞ্জ ও রঘুনাথপুর এবং কচুয়া উপজেলার উত্তরাঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। ফলে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আবুল কাশেম মিয়া বলেন, “বড় কষ্টে আছি ভাই। এটি কোনো সড়ক নয়, যেন মরণফাঁদ। সারাদেশে উন্নয়ন হচ্ছে, অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কেউ খোঁজ নেয় না।”
এদিকে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ছোটখাটো ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থাতেই সড়কটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো। কিন্তু রহস্যজনক কারণে প্রয়োজনীয় সময়ে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয় না। ফলে সড়ক পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেলে বড় অঙ্কের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এতে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন দুর্ভোগে পড়েন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) হাজীগঞ্জের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “সড়কটির শুরুর প্রায় এক কিলোমিটার এবং শেষের চার কিলোমিটার অংশে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।”
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, দুর্ঘটনা এড়াতে বরাদ্দের অপেক্ষা না করে জরুরি ভিত্তিতে সড়কের গর্তগুলো ভরাট করে চলাচল উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হোক। তাদের ভাষ্য, প্রতিদিন মানুষের জীবন ঝুঁকিতে রেখে আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই।