বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

শাহরাস্তিতে ডাকাতির গল্প সাজিয়ে বড় জাকে হত্যা, আদালতে ছোট জার জবানবন্দি

শাহরাস্তি প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বহুল আলোচিত গৃহবধূ রিগান আক্তার মিম (২৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ। প্রথমে ঘটনাটি ডাকাতির সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রচার পেলেও পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন তথ্য। তদন্তে জানা গেছে, এটি কোনো ডাকাতির ঘটনা নয়; পারিবারিক বিরোধ ও প্রতিহিংসার জেরে বড় জা রিগান আক্তার মিমকে হত্যা করেছেন তার ছোট জা কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দেন।

গত ১৪ জুলাই দিবাগত রাতে শাহরাস্তি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাত্ত্বলা গ্রামের বেপারী বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার পর জানানো হয়, ডাকাতির সময় বাধা দেওয়ায় হাতুড়ির আঘাতে রিগান আক্তার মিম নিহত হন এবং একই পরিবারের আরেক গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার আহত হন।

নিহত রিগান আক্তার মিম ওই গ্রামের মৃত সেলিম বেপারীর বড় ছেলে সাইফুল ইসলাম রনির স্ত্রী। তিনি তিন বছর বয়সী কন্যা সাইফা ও চার মাস বয়সী ছেলে সিরাজের জননী। ঘটনার সময় তার স্বামী ঢাকায় কর্মস্থলে ছিলেন।

তদন্তে পুলিশ দেখতে পায়, ঘটনাস্থলের আলামত, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং সুমাইয়া আক্তারের বক্তব্যের সঙ্গে বিভিন্ন অসঙ্গতি রয়েছে। পরে প্রযুক্তিগত তথ্য, জিজ্ঞাসাবাদ ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, ডাকাতির গল্প সাজিয়ে হত্যাকাণ্ডটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের নিবিড় তদন্তে দ্রুত সময়ের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনাকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক বিরোধ ও প্রতিহিংসাই ছিল এ হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

All rights reserved © meghnapost.com