বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

বরাদ্দের টাকা বাঁচিয়ে ২১ কিলোমিটার খাল খনন, সরকারি কোষাগারে ফেরত ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা

নুর মোহাম্মদ পাটোয়ারী :
সরকারি বরাদ্দের অর্থ সাশ্রয় করে নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়েও বেশি কাজ সম্পন্ন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন। দুটি খাল খনন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ সাশ্রয় করে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে শাহরাস্তি উপজেলায় ‘খদ্দের খাল’—ডাকাতিয়া নদীর খোর্দ হতে মোড়াগাঁও বটতলা শৈলখালী খাল পর্যন্ত এবং ‘নওড়া-মেহের গোদা খাল’ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্প দুটির জন্য মোট ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

এর মধ্যে খদ্দের খাল খননে বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ৯ লাখ ২ হাজার ৪৭০ টাকা এবং নওড়া-মেহের গোদা খাল খননে বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা।

প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে দেখা যায়, বরাদ্দের চেয়েও কম অর্থ ব্যয় হয়েছে। খদ্দের খাল খননে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৮৮ লাখ ৫৪ হাজার ৪১৩ টাকা এবং নওড়া-মেহের গোদা খাল খননে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৪৬ হাজার ১৯৪ টাকা। দুই প্রকল্পে মোট ব্যয়ের পর অবশিষ্ট ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।

শাহরাস্তি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল রানা পাপ্পু জানান, প্রকল্প দুটির আওতায় প্রথমে ১৯ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বরাদ্দের অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতির যথাযথ ব্যবহার ও পরিকল্পিতভাবে কাজ করায় বাস্তবে প্রায় ২১ কিলোমিটার খাল খনন করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণের শর্তও যথাযথভাবে বজায় রাখা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর কাজের ফলে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয়ও রোধ করা সম্ভব হয়েছে।

শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, যেখানে অনেক উন্নয়ন প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন দেখা দেয়, সেখানে নির্ধারিত বাজেটের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কাজ সম্পন্ন করে উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

এদিকে প্রশাসনের এ সাফল্য উচ্চপর্যায়েও প্রশংসিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ ৮ আগস্ট ২০২৬ শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিরা খাতুনকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সম্মানসূচক আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে প্রকল্প বাস্তবায়ন, বাজেট ব্যবস্থাপনা, সরকারি অর্থ সাশ্রয় ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শাহরাস্তির দুটি খাল খনন প্রকল্পে অর্থ সাশ্রয় ও অতিরিক্ত কাজ সম্পন্নের এই দৃষ্টান্ত সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, দক্ষতা, জবাবদিহিতা ও সঠিক বাজেট ব্যবস্থাপনার অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

All rights reserved © meghnapost.com