বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন
ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শোভাগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ দেলওয়ার হোসেন নূরীকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে বাদ- বাকী তথ্য প্রদান করে সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিককে হয়রাণী না করার নির্দেশ প্রদান করেছেন তথ্য কমিশন।
মঙ্গলবার দেড়টায় ঢাকাস্থ আগারগাঁও তথ্য কমিশন কার্যালয়ে সুন্দরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাব’র সভাপতি- আবু বক্কর সিদ্দিকের দায়েরকৃত পূণঃ অভিযোগ শুনানী অন্তে এ আদেশ দেন প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ। এসময় তথ্য কমিশনার- নেপাল চন্দ্র সরকার, সুরাইয়া বেগম (এনডিসি), গবেষণা কর্মকর্তা- রাবেয়া খাতুন,অভিযোগকারী সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিক ও অভিযুক্ত অধ্যক্ষ দেলওয়ার হোসেন নূরী উপস্থিত ছিলেন। শুনানীর আগে অধ্যক্ষ দেলওয়ার হোসেন নূরীর নানান প্রকার বক্তব্য মিথ্যা বলে প্রমাণীত হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৭ সালের ২৯৫ নম্বর অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুনানী হলে সে সময় ১৫ দিনের মধ্যে সাংবাদিককে তাঁর চাহিত তথ্য প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থদন্ড থেকে রেহাই পান অধ্যক্ষ। কিন্তু, তিনি পরবর্তীতে অসম্পন্ন, অস্পষ্ট তথ্য প্রদানের নামে সাংবাদিককে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অতিরিক্ত টাকা (তথ্যের মূল্য বাবদ) জমাদানে বাধ্য করিয়েছেন। মর্মে তথ্য দেয়ার নামে প্রতারণাসহ হয়রাণীর প্রতিকার চেয়ে সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিক পূণঃ অভিডোগ দায়ের করেন। যার নম্বর- ১৮৩/ ২০১৮। এ অভিযোগ শুনানী অন্তে এ আদেশ প্রদান করেন মাননীয় তথ্য কমিশন।
এব্যাপরে সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ১৯৭০ সালে জুন মাসে জন্ম তারিখ হলেও ১৯৮১ সালে মরুয়াদহ এইচএমকে দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশের সনদ, কলেজে বিভিন্ন পদে শিক্ষক- কর্মচারী নিয়োগ ও কলেজের জায়গা-সম্পর্কে তেলেছমাতি কারবার, রাতারাতি কোটিপতির বনে যাওয়ায় জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়সহ দুদক’র আশু-হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সাদুল্যাপুরে ভিজিএফ’র চাল লোপাটের ঘটনায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত
ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ৮নং ভাতগ্রাম ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ১৩৯ জন দু:স্থ পরিবারের ভিজিএফের চাল কালোবাজারে বিক্রি, ওজনে কম ও আত্মসাতের অভিযোগে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ জুলাই) দুপুরে সাদুল্যাপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয়ে এ তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এএসএম সাদেকুর রহমান অভিযোগের তদন্ত করেন।এসময় ভিজিএফের চাল বঞ্চিত ১৩৯ জন সুবিধাভোগী, অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে তদন্ত সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সুবিধাভোগী ও অভিযোগকারী স্বাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। এছাড়া একই সাথে তদন্তে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান এটিএম রেজানুল ইসলাম বাবু তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তার লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন।
ঈদুল-উল-ফিতর উপলক্ষে ভাতগ্রাম ইউনিয়নে ভিজিএফ’র কর্মসূচির আওতায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার দু:স্থ পরিবারের জন্য চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। বরাদ্দ চালের মধ্যে ৫নং ওয়ার্ডের তালিকাভুক্ত ১৩৯ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়নি। এসব পরিবারের প্রায় ২৮ বস্তা চাল স্থানীয় ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রির অভিযোগ উঠে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এছাড়া সুবিধাভোগী প্রত্যেককে ১০ কেজি চাল দেয়ার কথা থাকলেও অনিয়মের মাধ্যমে ৭ কেজি করে বিতরণ করা হয়। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা একেএম ইদ্রিস আলীর নির্দেশে তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়।
তদন্তের দায়িত্বে থাকা সাদুল্যাপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. এএসএম সাদেকুর রহমান জানান, তদন্তে অভিযোগকারী ও সুবিধাভোগীরা তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। এছাড়া অভিযুক্ত চেয়ারম্যানও তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তবে তদন্তে তিনি কি পেয়েছেন তা জানাতে চাননি। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর কথা জানান তিনি।
এদিকে, তদন্তে আসা একাধিক সুবিধাভোগীর অভিযোগ, তদন্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ তুলে না ধরে পক্ষে কথা বলার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেয় চেয়ারম্যানের লোকজন। এছাড়া তদন্তে আসার সময় তাদের বাঁধাও দেয়া হয়। ঈদের আগে চাল থেকে বঞ্চিত হয়ে বর্তমানে হুমকি-ধামকিতে ক্ষোভ বিরাজ করছে এসব সুবিধাভোগী মানুষের মধ্যে।
তবে চেয়ারম্যান এটিএম রেজানুল ইসলাম বাবু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কাউকে হুমকি-ধামকির অভিযোগ সত্য নয়। সুষ্ঠ ভাবে ভিজিএফ’র চাল বিতরণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অবগত আছেন। তাকে হয়রানী করতে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে’।
দুঃস্থদের ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম ও আত্মসাতের ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রচার হয় যমুনা টেলিভিশনে। এছাড়া প্রতিকার দাবিতে ভাতগ্রাম ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) ইদ্রিস আলী চেংটু জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।