বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন ও নৌ-পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

জিটিবি নিউজ টুয়েন্টিফোর : যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া নদী বন্দর এলাকায় নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন ও নৌ-পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদের দৌরত্ম্যে আমদানিকারক-ব্যবসায়ী ও জাহাজ মালিকরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন অভয়নগর নওয়াপাড়া শাখার সেক্রেটারি বলছেন, চাঁদাবাজি নয়, সংগঠনের পক্ষ থেকে জাহাজপ্রতি এক শ করে টাকা আদায় করার নির্দেশনা আছে। নওয়াপাড়া নৌ-পুলিশ বলছে, তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। নওয়াপাড়া নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে চাঁদা আদায়ের কোনো বৈধতা নেই।

জানা গেছে, খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারের অত্যাচার ও ব্যাপক চাঁদাবাজির কারণে আশির দশকে খুলনা থেকে নওয়াপাড়ায় চলে আসতে শুরু করেন বিভিন্ন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। একপর্যায়ে নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট, চাল, বালু, পাথর ও কয়লার মোকাম হিসেবে দেশের মধ্যে পরিচিতি লাভ করতে শুরু করে। ৯০ দশকে শিল্প, বাণিজ্য ও একটি বন্দরনগরীতে পরিণত হয় নওয়াপাড়া। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন অভয়নগর নওয়াপাড়া শাখার নামে একটি চাঁদাবাজচক্র বন্দরে থাকা জাহাজ, কার্গো ও ছোট-বড় ট্রলার বোট থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতে শুরু করে। এই চক্রের সাথে নতুন করে যুক্ত হয় ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে গঠন করা নওয়াপাড়া নৌ-পুলিশ। এরপর থেকে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন ও নৌ-পুলিশ যৌথভাবে চাঁদা আদায় করতে শুরু করে। তারা অনৈতিক পন্থায় বিভিন্ন মালবাহী ট্রলার বোট, জাহাজ ও ঘাট মালিকদের হয়রানি করে মোটা অংকের টাকা আদায় করতে থাকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মালবাহী ট্রলার মালিক ও চালক জানায়, নওয়াপাড়ায় নৌ-পুলিশ ক্যাম্প হওয়ার পর থেকে প্রতিনিয়ত চাঁদা দিতে হয়। কারণে-অকারণে ভয়-ভীতি দেখিয়ে নৌ-পুলিশের এসআই আসাদুজ্জামানের নামে চাঁদা দিতে হয়। ওই পুলিশ কর্মকর্তার অত্যাচারে সরকারের গ্রাম উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে মালবহন করা দূরহ হয়ে পড়েছে। এ ধরনের পুলিশ কর্মকর্তার তদন্তপূর্বক অপসারণের দাবি করেন তারা।

চাঁদাবাজি ও হয়রানির বিষয়ে নওয়াপাড়া নৌ-পুলিশ ক্যাম্পের এসআই আসাদুজ্জামান বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। তিনি গত ৩ ও ৪ অক্টোবর নওয়াপাড়া নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিআইডাব্লিউটিএর উদ্যোগে নওয়াপাড়া বন্দর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়েছিল বলে জানান। ওই দুই দিনের অভিযানে বিভিন্ন জাহাজ, কার্গো ও ঘাট মালিকরা তাদের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় কয়েক লাখ টাকা জরিমানা করেন আদালত। তার ক্যাম্পের কেউ চাঁদাবাজির সাথে জড়িত নয় বলে তিনি দাবি করেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানায়, সরকারের সব ধরনের রাজস্ব দেওয়ার পরও চাঁদাবাজদের শিকার হতে হচ্ছে তাদের। কখনও নৌ-পুলিশের নামে, কখনও নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নামে। এ অবস্থায় নওয়াপাড়ায় ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। নৌপথে ব্যাপক চাঁদাবাজি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন অভয়নগর নওয়াপাড়া নদীবন্দর শাখার সেক্রেটারি নিয়ামুল হক রিকো জানান, তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে জাহাজপ্রতি এক শ করে চাঁদা আদায় করা হয় (রশিদের মাধ্যমে)। যা তার সংগঠনের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের অনুমোদনকৃত। নৌ-পুলিশের সাথে এক হয়ে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।

নওয়াপাড়া নদীবন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মাসুদ পারভেজ জানান, নৌপথে কোনো সংগঠনের নামে জাহাজ, কার্গো, ট্রলার বোট বা ঘাট থেকে চাঁদা আদায় করা যাবে না। এটা সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনি কাজ। এদেরকে পুলিশে সোপর্দ করতে আহ্বান জানান তিনি।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, নৌযান ও নৌ-পুলিশের চাঁদাবাজির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূত্র ঃ কালের কণ্ঠ

নিউজটি শেয়ার করুন

All rights reserved © meghnapost.com