বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ন
জিটিবি নিউজ টুয়েন্টিফোর : নাটোরের নলডাঙ্গার বাঁশিলা উত্তরপাড়ার গৃহবধূ হালিমা খাতুন ওরফে শারমিন (২০) এবং তাঁর দুই বছরের প্রতিবন্ধী ছেলে আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। দুই ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ডের কথা শিকার করায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়েছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া দুজনের একজন এজাহারভুক্ত আসামি মো. মাহবুল আলম মুক্তা এবং অপরজন আনোয়ার বাবু। জানা যায়, গত ১৫ মে রাতে গৃহবধূ হালিমাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এরপর তাঁর অবুঝ সন্তান আব্দুল্লাহকেও হত্যার পর পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পরদিন ১৬ মে নিহত গৃহবধূর বাবা ওমর ফারুক বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় নিহতের দেবর মাহবুল আলম মুক্তাকে আসামি করা হয়। পুলিশ এদিনই আসামি মুক্তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর হত্যার কথা স্বীকার করে মুক্তা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গত অক্টোবর পর্যন্ত সবাই জানতেন যে হালিমা ও তাঁর ছেলেকে হত্যা করেছেন মুক্তা। কিন্তু গত ১৯ অক্টোবর পুলিশ গ্রেপ্তার করে ভয়ংকর এক খুনি আনোয়ার হোসেন বাবু ওরফে বাবু শেখ ওরফে আনার ওরফে কালুকে। কালুর বাড়ি পাশের রানীনগর উপজেলার হরিশপুর গ্রামে। তাঁর বাবা জাহের আলী। দ্বিতীয়জনকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। এই বাবু শেখই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হালিমা ও তাঁর ছেলেকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী তিনি ১০টি খুন করেছেন। এর মধ্যে একটি শিশু ও ৯ জন নারী। এই হত্যার আগে পাঁচজনকে তিনি ধর্ষণ করেন। নাটোর পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী কালু মাছ শিকারির বেশে গ্রামে গ্রামে ঘুরে তাঁর ‘শিকার’ খুঁজতেন। কালুকে গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। এ অবস্থায় হালিমা হত্যায় কারাবন্দি মুক্তার পক্ষ থেকে হাইকোর্টে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়। তাঁর পক্ষে অ্যাডভোকেট রাশেদ খান বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। এরপর হাইকোর্ট গত ৪ ডিসেম্বর এক আদেশে মুক্তাকে এক বছরের জামিন দিয়েছেন। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আমিনুর রহমানকে তলব করেছেন। এ বিষয়ে আদালতের আদেশে বলা হয়, ‘আমরা এসআই আমিনুর রহমানের তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে আশ্চার্যান্বিত হয়েছি। একজন তদন্ত কর্মকর্তা হয়ে তিনি কিভাবে নিশ্চিত হলেন যে মুক্তাই হত্যাকারী? তিনি নিশ্চিত না হয়ে কিভাবে মুক্তাকে জবানবন্দি দিতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির করলেন?’ সংশ্লিষ্ট আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী কালের কণ্ঠকে বলেন, আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে হাজির হতে আদেশ দিয়েছেন।
সূত্র ঃ কালের কণ্ঠ