বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৭ অপরাহ্ন
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে এক কলেজছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই কলেজছাত্রী গতকাল শুক্রবার sp;থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তার কলেজছাত্রের মুঠোফোন থেকে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও ও নগ্ন ছবি জব্দ করেছে পুলিশ। গতকাল রাতেই তাঁকে গ্রেপ্তারের পর আজ শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার কলেজছাত্রের নাম আশরাফুল ইসলাম (২৫)। তিনি রাজশাহীর বরেন্দ্র কলেজে সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। আশরাফুল মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর এলাকার হরিদাগাছি মহল্লার ময়েজউদ্দিনের ছেলে।
এদিকে ঘটনার শিকার কলেজছাত্রী ভিন্ন একটি কলেজে সম্মান প্রথম বর্ষে পড়েন।
আজ শনিবার সকালে কলেজছাত্রীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠায় পুলিশ। আর কলেজ ছাত্রকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, গ্রেপ্তার আশরাফুল দাবি করেছেন, কলেজছাত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মেয়েটি জানিয়েছেন, তাঁদের বাড়িতে আশরাফুলের যাতায়াত ছিল। ২০১৯ সালের ১৮ জুন সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে আশরাফুল মেয়েটির বাড়িতে যান। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে কলেজছাত্রীকে তিনি ধর্ষণ করে। এ সময় তিনি তাঁর মুঠোফোনে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ও নগ্নছবি ধারণ করেন। মেয়েটি নিজের মানসম্মানের কথা চিন্তা করে বিষয়টি চেপে যান। কোনো আইনি পদক্ষেপ নেননি।
ওসি জানান, কয়েকদিন আগে ধর্ষণের ভিডিও চিত্রটি আশরাফুল ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনায় কলেজছাত্রী নিজে বাদী হয়ে গতকাল রাতে মোহনপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন। পুলিশ গতকাল রাতেই মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করে। কলেজছাত্রের মুঠোফোন থেকে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ও নগ্ন ছবি জব্দ করেছে পুলিশ।
রাজশাহীর মোহনপুরে একের পর এক স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা, অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। অপহরণ মামলায় জেল থেকে বের হয়ে এসে ফের নবম শ্রেণির ছাত্রী উত্ত্যক্ত করার কারণে ওই স্কুলছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ‘এক থানাতেই ৭ মাসে ধর্ষণের ১৯ মামলা’ শিরোনামে প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সে সময় ধর্ষণের অপমানে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করে। আর এসব ঘটনার শিকার বেশির ভাগই স্কুল শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ পাওয়ায় মোহনপুর থানার আগের ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়।
ওসি মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, এ ধরনের অপরাধ দমন করতে স্কুল-কলেজে গিয়ে সচেতনতামূলক তথ্য প্রচার করছেন তিনি।