বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

পুলিশ ও গ্রামবাসির সংঘর্ষ: নীলফামারীতে ওসি সহ আহত ৩

ক্রাইম রিপোর্টারঃ লকডাউন নীলফামারী জেলা তবে পুলিশের লাঠি চার্জে সামাজিক দূরত্বে তোয়াক্কা না করে ঝুঁকি ডেকে আনার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ঈদগা ময়দান নদী ভাঙ্গনের হাত হতে রক্ষার্থে বালু দিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বাধ নির্মাণে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।সোমবার(২৭ এপ্রিল)দুপুরের দিকে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়াডের হাটখোলা গ্রামে। এ ঘটনায় উপজেলা হাসপাতালে আহত ওসি (তদন্ত) ও এক দম্পক্তিকে ভর্তি করা হলে সেখান থেকে ওসি (তদন্ত) মফিজুল হককে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

এলাকাবাসী জানায়, গ্রামের পাশ দিয়ে যাওয়া চারালকাটা নদী খননে গ্রামের ঈদগা ময়দানটি ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। ফলে গ্রামবাসী স্বেচ্ছায় ঈদগা ময়দান রক্ষার্থে বালির বাধ নির্মানের কাজ শুরু করলে একই গ্রামের মৃত, ঈসাউদ্দিনের ছেলে তছলিম উদ্দিন ঈদগা ময়দানের জায়গা তার নিজের দাবি করে গ্রামবাসীকে বালির বাধ নির্মানে বাধা দিয়ে তার লোকজন নিয়ে ২১ এপ্রিল গ্রামের আলমগীর হোসেন সহ চারজনকে মারপিট করে। আহতরা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে এ ঘটনায় ২২ এপ্রিল তছলিম উদ্দিন সহ তার বাহিনীর বিরুদ্ধে আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর ৭)। অপর দিকে তছলিম উদ্দিনও পাল্টা মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। তছলিম উদ্দিনের মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই আব্দুল ওহাব।

সোমবার(২৭এপ্রিল) সকালে যখন এলাকাবাসী পুনরায় ঈদগা ময়দানের সামনে সেচ্ছায় বালির বাধের কাজ করছিল সে সময় তছলিম উদ্দিন এসআই আব্দুল ওয়াবকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে আসলে উক্ত এসআই ঘটনাস্থলে এসেই সাধারন মানুষজনকে লাঠি পেটাতে থাকেন। প্রতিবাদ করতে গেলে গ্রামের ইলিয়াছ হোসেন(৪৫)কে পানিতে ফেলে মারপিট ও পানির নিচে পা দিয়ে চেপে ধরেন ওই এসআই। স্বামীকে উদ্ধার করতে ছুটে গেলে ইলিয়াছ হোসেনের স্ত্রী তহমিনা বেগম(৩২)কেও ওই এসআই লাঠি দিয়ে বেধরক পেটাতে থাকে। এত গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ওই এসআইকে ধাওয়া করলে তিনি দৌড়ে পালাতে থাকেন।

খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মফিজুল হকের নেতৃত্বে এক দল পুলিশ এসে কোনো কিছু শুনেই  গ্রামবাসীর উপর এলোপাতারি লাঠি চার্জ করতে গেলে গ্রামবাসী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ অবস্থায় পুলিশের দলটি একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এরপর ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বারী পাইলট। তার সহায়তায় উপজেলা হাসপাতাল হতে এ্যাম্বুলেন্স এনে আহত ওসি(তদন্ত) ও আহত দম্পতিকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। এখান থেকে আহত ওসি (তদন্ত)কে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে(রমেক) রেফার্ড করা হয়।এ সময় গ্রাবাসী দায়ি পুলিশ সদস্যদের বিচার ও অপসারন দাবি করে বিক্ষোভ করতে থাকে। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) অশোক কুমার পাল।তিনি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোি দের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বারী জানান, থানার এসআই আব্দুল ওহাবের কারনে এই পরিস্থিতির সৃস্টি হয়েছে।

 

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ:সৈয়দপুরে আহত ৩০

বিশেষ প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় পানের পিক ফেলাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্র ধরে দুই ক্যাম্পবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) ইফতারির পূর্ব মূহুর্তে সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়া কলিম মোড় এলাকায় সংঘটিত এ ঘটনায় ৩০জন আহত হয়েছেন। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

জানা যায়, দুই দিন আগে সৈয়দপুর শহরের শহীদ জহুরুল হক রোডস্থ মক্কা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির দোকানে গেটে দেয়া তালায় পানের পিক ফেলা নিয়ে বিরোধ হয় স্থানীয় দূর্গামিল ক্যাম্প ও পাশ্ববর্তী কুলি মহল্লার লোকজনের মধ্যে। এরই জের ধরে সোমবার(২৭ এপ্রিল) বিকেলে বাদ আসর আবারও উত্তেজনার সৃষ্টি হয় উভয় মহল্লাবাসীর মধ্যে। তর্ক-বিতর্ক তা মূহুর্তে রূপ নেয় রণক্ষেত্রে। দুই পক্ষের প্রায় ২ শতাধিক মানুষ ইট, পাথর নিক্ষেপসহ লাঠি, রড নিয়ে জড়িয়ে পড়ে তুমুল সংঘর্ষে ।

এতে ঘটনাস্থলেই আহত হয় প্রায় ৩০ জন। এর মধ্যে গুরুত্বরভাবে আহত ১২ জনকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরা হলেন কুলি মহল্লার রনি, নাইম, মনসুর, নাসিম এবং দূর্গা মিল ক্যাম্পের রাজু, রায়হান, নয়ন, সমসের, আফতাব, মমতাজ, আরজু ও জাহাঙ্গীর। এদের মধ্যে রনির অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাৎক্ষনিক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে।পৗরসভার ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এরশাদ হোসেন পাপ্পু বলেন, বিষয়টি আপোষ মিমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল।কিন্তু উভয় পক্ষের অসহযোগিতার কারণে তা করা সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে আবারও তাদের সংঘর্ষের ঘটনা খুবই দুঃখজনক।

সৈয়দপুর থানার ওসি  আবুল হাসনাত খান বলেন, পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

অসহায় কর্মহীন মানুষের মাঝে ৫৬ বিজিবি’র উদ্যোগে খাদ্য সহায়তা প্রদান

বিশেষ প্রতিনিধিঃ করোনা পরিস্থিতিতে খাদ্য সংকটে পড়া অসহায় কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি।সোমবার(২৭ এপ্রিল) বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের রংপুর শাখার সহযোগীতায় নীলফামারী জেলার ডোমার ও পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার সীমান্তের গ্রামে ৫৬ বিজিবির আওতাধীন বিওপি সমূহে এই খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নীলফামারী ৫৬ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ মামুনুল হকের দিক নির্দেশনায় ৫৬ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর হুমায়ুন কবির (পিবিজিএমএস) এই খাদ্য সহায়তা বিতরন করেন।

এর মধ্যে চিলাহাটি ডাকবাংলো মাঠে ১৪০জন, ডাঙ্গাপাড়া বিওপিতে ৭৫জন, ভোগডাবুড়ি বিওপিতে ৪০জন, নামাজিপাড়া বিওপিতে ৫৫জন, কেতকীবাড়ি বিওপিতে ৭৫জন, বোদা উপজেলার ডানাকাটা বিওপিতে ৩৫ জন, মালকাডাঙ্গা বিওপিতে ২০ জন ও বড়শশী বিওপিতে ৭জন সহ মোট ৪৪৭ পরিবারকে এই সহায়তা প্রদান করা হয়।

খাদ্যসহায়তা প্রদানের সময় ৫৬ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর হুমায়ুন কবীর বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে আর্থিক সংকটে রয়েছে অনেক পরিবার। এ অবস্থায় ৫৬ বিজিবির পক্ষে এই সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার(২৮ এপ্রিল) পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলা ও তেঁতুলিয়া উপজেলার বিওপি এলাকার ৫৫৩টি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে বলে ৫৬ বিজিবি সুত্রে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

All rights reserved © meghnapost.com