বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৬ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

কলেজ ছাত্র হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ, বাবা ও ছেলে গ্রেফতার

ক্রাইম রিপোর্টারঃ নীলফামারী সদরের কচুকাটা গ্রামে কলেজ ছাত্র আবু মুসা(২১)কে পরিকল্পিতভাবে ট্রলি (ট্রাক্টর)চাপায় হত্যার ঘটনায় বাবা মার্শাল আলী (৫০) ও তার ছেলে আশিক ইসলাম(১৬)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার(২৮ এপ্রিল) গভীর রাতে নীলফামারী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই রেজাউল করিম বাদী হয়ে নীলফামারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। হত্যার শিকার মুসা কচুকাটার সরদারপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। সে নীলফামারী সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।এদিকে বুধবার(২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এলাকাবাসী বাবা ছেলের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে ফাঁসী দাবি করে সড়কে উপর বিক্ষোভ করেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, আবু মুসার ট্রাক্টর ভাড়া নিয়ে ট্রলিতে বালু মাটির ব্যবসা করেন পাশ্ববর্তী বড়বাড়ী গ্রামের মার্শাল আলী। আর ট্রাক্টরের চালক মার্শাল আলীর ১৬ বছরের ছেলে আশিক। বাবা ছেলে টানা ৩মাসের ট্রলির ভাড়া বাকী রাখায় মুসার সঙ্গে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নীলফামারী-জলঢাকা সড়কে কচুকাটা বাজারে মার্শাল আলীর ছেলে আশিক ট্রাক্টরের চালিয়ে এলে তার সামনে দাঁড়িয়ে টাকা দাবি করে মুসা। এ সময় ঘটনাস্থলে ছুটে এসে মার্শাল মিয়া তার ছেলেকে হুকুম দেয় মুসাকে ট্রাক্টরের চাপা দিয়ে মেরে ফেলতে। বাবার হুকুম পেয়ে চালক আশিক আলী আবু মুশাকে চাপা দিলে গুরুতর আহত অবস্থায় আবু মুসাকে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে ও পড়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্ত করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার(২৮এপ্রিল) বিকেলে মুসার মৃত্যু হয়।এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কচুকাটা বাজারে বিক্ষোভ শেষে নীলফামারী-জলঢাকা সড়ক অবরোধ করে।খবর পেয়ে নীলফামারী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রুহুল আমিন ও নীলফামারী থানার ওসি মোমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে অপরাধীদের গ্রেতারের প্রতিশ্রুতি দিলে তারা অবরোধ তুলে নেয়।সদর থানার ওসি জানান, রাতে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

নীলফামারীতে কোয়ারেন্টাইন থেকে পালানো ২৮ ইটভাটার শ্রমিক ফের আটক

বিশেষ প্রতিনিধঃ নীলফামারীতে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন থেকে পালিয়ে যাওয়া ২৮ ইটভাটা শ্রমিককে আবারো আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। তবে তাদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন গ্রামে।পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার(২৮ এপ্রিল) রাত ৯টায় জেলা সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের সোনারায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে।বুধবার(২৯ এপ্রিল) সকাল হতে পালিয়ে যাওয়া ২৮জনকে খুঁজতে পুলিশ ও এলাকার জনপ্রতিনিধিরা মাঠে নামেন। বিকাল ৫টায় তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পূর্ণরায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে প্রেরণ করা হয়। পাশাপাশি তাদের বাড়ি লকডাউন করে পরিবারের সদস্যকে নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার(২৮এপ্রিল) সকালে সৈয়দপুর থানা পুলিশ সৈয়দপুর-পার্বতীপুর সড়কের চৌমুহনী বাজারের অস্থায়ী পুলিশ চেকপোষ্ট ৪৪জন ভাটা শ্রমিককে আটক করে। তারা ট্রাকে ত্রিপল দিয়ে বিশেষ কায়দায় গাজীপুর থেকে পালিয়ে আসতেছিল। পরে পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ বিকাল ৪টার দিকে আটক ইটভাটা শ্রমিকদের তাদের নিজ গ্রাম নীলফামারী সদরের সোনারায় ইউনিয়নের সোনারায় ও চকদুবলিয়া গ্রামের দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৪দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখেন। সেখান থেকে তারা পালিয়ে যায়।
স্থানীয় সুত্রে কোয়ারেন্টাইন না মেনে ওইসব শ্রমিককে বুধবার(২৯এপ্রিল)সকালে তাদের নিজ নিজ বাড়ির সামনে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তাৎক্ষনিক বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান ও থানা পুলিশ অবহিত করলে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।পরে বিকাল ৫টায় পালিয়ে যাওয়া শ্রমিকদের আবারো নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পূর্ণরায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে প্রেরণ করা হয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সোনারায় ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, কোয়ারেন্টাইনে থাকা শ্রমিকদের দেখভালের জন্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও গ্রা পুলিশ নিয়োজিত ছিল। কোয়ারেন্টাইনে থাকা শ্রমিকদের রাতের খাবারের ব্যবস্থা করার সময় ওই এলাকা থেকে জনৈক ব্যক্তি ফোন করে তাদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি জানান।
নীলফামারী সদর থানার ওসি মমিনুল ইসলাম বলেন, পুলিশ, ইউপি চেয়ারম্যান, ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিলে ওই সকল শ্রমিকদের আটক করে তাদের বুঝিয়ে কোয়ারেন্টাইনে ফিরে আনা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

All rights reserved © meghnapost.com