বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক :
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার পশ্চিম আড্ডা (জমাদ্দার বাড়ি) গ্রামের পাঁচ বছর বয়সী শিশু শাহেদ হোসেন প্রকাশ মো. সাইফ আহাম্মদ হত্যা মামলার তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন নিহতের পরিবার। তাদের দাবি, ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মামলার বাদী ও নিহত শিশুর বাবা ওমান প্রবাসী মো. রিপন হোসেন জানান, ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর দুপুরে তার ছেলে শাহেদ নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাননি। দুই দিন পর, ২২ ডিসেম্বর সকালে পশ্চিম আড্ডা এলাকার একটি পুকুরে শিশুটির মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই সময় রিপন হোসেন প্রবাসে থাকায় তার ভাই হানিফ থানায় অপমৃত্যুর সংবাদ দেন। পরে বরুড়া থানায় অপমৃত্যু মামলা নং-০২/৪৫ রুজু করে পুলিশ এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরিবারের দাবি, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, লিগ্যাচার (দড়ি বা অনুরূপ বস্তু) দিয়ে শ্বাসরোধের কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে এবং এটি একটি হত্যাকাণ্ড (Homicidal in nature)।
বাদীর অভিযোগ, ঘটনার আগে প্রতিবেশী সোহাগ সরকার ও মিজানুর রহমান সরকার তার স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দেন। এমনকি সন্তানকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর না দিয়ে সেখান থেকে চলে যান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় ১৩ মে ২০২৬ তারিখে বরুড়া থানায় মামলা নং-২৫, ধারা ৩০২/৩৪ দণ্ডবিধিতে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত ও বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সোহাগ সরকার ও মিজানুর রহমান সরকারকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে সন্দেহ প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান বাদী।

তবে পরিবারের অভিযোগ, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর শুভ কুমার শুরের কাছে একাধিকবার তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হলেও তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। এমনকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), কুমিল্লার পুলিশ সুপার এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ) বরাবর অভিযোগ জানানো হলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেছে পরিবার।
নিহত শিশুর স্বজনরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।