বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

প্রকৌশলী ছানোয়ার অনিয়ম ও দুর্নীতি করে গড়েছে ২০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ

নিজস্ব প্রতিনিধি :

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. ছানোয়ার হোসেন। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি টাকার বেশি।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার কাজে প্রকল্পের নকশা ও নির্ধারিত মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং তদারকির ঘাটতির কারণে অনেক সড়ক নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, ছানোয়ার হোসেন ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে চাকরি শুরু করে পরে উপসহকারী প্রকৌশলীর দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করে ছানোয়ার হোসেন। প্রকৌশলী অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তার আত্মীয় থাকাতে সময় বুঝে তাদের হাত ধরে উপজেলা প্রকৌশলীতে পদোন্নতি হয়ে প্রথমে সুনামগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী হিসাবের যোগদান করেন পরে টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর উপজেলায় তিনমাস অবস্থান করে অধিদপ্তরে তার আত্মীয়র তদারকিতে কালিহাতী উপজেলায় যোগদান করেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তার অফিসে বসে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঠিকাদার, সাংবাদিক এবং সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রায়ই অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এছাড়া অফিস পরিচালনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি তদারকিতেও অনিয়ম রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এদিক কোনো গণমাধ্যম কর্মী তার কাছে তত্ত্বের জন্য ফোন দিলে তিনি বলেন, আমি আপনার বাড়ি কামলা নই যখন তখন ফোন করবেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালে এলেঙ্গা পৌরসভার অংশে  প্রায় ১ হাজার ৮০০ মিটার সড়ক সংস্কার প্রকল্পে সিডিউল অনুযায়ী সম্পূর্ণ স্কারিফাই করার কথা স্কারিফাই না করেই কাজ শেষ করা হয়। এজন্য অল্প সময়ের মধ্যে রাস্তা নষ্ট হয়ে যায়।

 এ ঘটনায় ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশের মোটা অংকের টাকা নিয়ে সে ওমরা হজ্জ করতে যান। স্থানীয়দের দাবি, বল্লা-এলেঙ্গা সড়কের প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ ১৪ হাজার দুইশত ৭২ টাকার সংস্কারকাজ,

এক কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা ব্যায়ে মগড়া বাজার থেকে পুলিশ ফাঁড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন এবং ফুলবাড়ি স্কুলসংলগ্ন নতুন সড়ক নির্মাণসহ একাধিক প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত মান বজায় না রেখে দায়সারাভাবে কাজ সম্পন্ন করা হয়।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, বর্তমানে প্রকৌশলী ছানোয়ার হোসেন অনিয়ম ও দুর্নীতি করে রাজধানীর ঢাকা শহরে রয়েছে একাধিক ফ্লাট, তার গ্রামের বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার দিগর নিজ বাড়িতে ৭০ লক্ষ টাকার ভবন নির্মাণ। ঘাটাইল উপজেলা শহরে ৮ শতাংশ জমি উপরে তিন তলা ভবন প্রায় দুই কোটি ৪০ লক্ষ টাকা।  ব্রাহ্মণ শাসন বাজারে রাস্তার  পাশে ৮ শতাংশ জমি সহ মার্কেট নির্মাণ প্রায় ২ কোটি টাকা। ব্রাহ্মণ শাসন বাজারের পূর্ব পাশে দিগর যাওয়ার রাস্তার পাশে ১০ শতাংশ জমি প্রায়  এক কোটি টাকা। টাঙ্গাইল শহরের ছোট কালিবাড়ী ফ্ল্যাট প্রায় দুই কোটি টাকা। এই অবৈধ অর্জনে ২০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ গড়েছে। তাদের অভিযোগ, এসব সম্পদের উৎস তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।  তার তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে ঢাকার একটি  বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করান। তার বাসা ভাড়া ৪০ হাজার টাকা, টিউশনি ৪০ হাজার টাকা, মেয়ের হাত খরচ ২০ হাজার টাকা। এক মেয়ের পিছনে মাসে এক লক্ষ টাকা খরচ হলে তার মাসে আয় কত টাকা।

এদিকে উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পের বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করার অভিযোগও উঠেছে। একাধিক ঠিকাদারের দাবি, কমিশনের অর্থ পরিশোধ না করলে বিল অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি করা হয়, ফলে তারা আর্থিক ও প্রশাসনিক ভোগান্তির শিকার হন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী ছানোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনার যা মন চায় তাই করেনগা, আমার সবকিছুই এমপি মহোদয় দেখবেন।”

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীনের বক্তব্যে জানান, মগরা রাস্তায় এখনো বিল দেওয়া হয়নি। এর পরেও মগরা এবং বল্লা ৮ সিসি রাস্তা কাটিং মেশিন এনে পরিক্ষা করা হবে। আর সকল বিষয়ে ছানোয়ার কে অফিসে ডেকে এনে কথা বলবো।

এদিকে এলাকাবাসী অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য,অনুযায়ী  সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে সব উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

All rights reserved © meghnapost.com