বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

শ্যামনগর থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার :

জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, গালাগালি, ক্ষেতের ধান বিনষ্ট এবং বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শ্যামনগর থানার এসআই আমির ও এএসআই ইমরান হোসেনের এমন অপচরণের মুখে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলার কাশীমাড়ী মৌজার পৈতৃক সূত্রপ্রাপ্ত ৩৪ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল একটি স্থানীয় প্রভাবশালী পক্ষ। এ নিয়ে মো. হাশেম আলী বাদী হয়ে ১৮৮১ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করেন (এস.এ দাগ নং ২৩২, খতিয়ান ৮২৯)। পরবর্তী সময়ে বিবাদী পক্ষ আলাউদ্দিন গং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৭ ধারায় আরেকটি মামলা করলে বিষয়টি তদন্তে নামে পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত ও নোটিশ জারির নামে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রশাসনিক ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেন এএসআই ইমরান হোসেন। তিনি বাদী পক্ষের ক্ষেতের উঠতি ধান উঠিয়ে ফেলে দেন বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

পরবর্তীতে ঘটনার সুরাহার উদ্দেশ্যে হাশেম আলীর ভাইপো ও সাতক্ষীরা কোর্টের সহকারী আইনজীবী মোহরী হাসনাত হাসু শ্যামনগর থানায় যোগাযোগ করেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য দিন ধার্য করার আশ্বাস দিয়ে এসআই আমির ও এএসআই ইমরান তাঁর কাছে ৭,০০০ টাকা ঘুষ দাবি করেন। বাধ্য হয়ে একটি বিকাশ এজেন্ট নম্বরের মাধ্যমে তাঁদের ৪,৫০০ টাকা প্রদান করা হয়। টাকা লেনদেনের অডিও কল রেকর্ড ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

আদালত থেকে জারি করা ১৪৫ ধারার নোটিশটি যথাযথভাবে কার্যকরের অনুরোধ জানালে উক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং মোবাইল ফোনে গালিগালাজ করেন। রেকর্ড হচ্ছে টের পেয়ে এএসআই ইমরান কল কেটে দেন, যার আংশিক রেকর্ডও সংরক্ষিত আছে।

কয়রার খবর -এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এরপরই এসআই আমির ও এএসআই ইমরান কাশীমাড়ী বাজারে গিয়ে সুবহান কবিরাজের ছেলে হাসনাত হাসুকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার এবং ফোন ট্র্যাকিংয়ে রেখে আটক করার প্রকাশ্যে হুমকি দেন।

আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর এমন হুমকির মুখে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ সুবহান কবিরাজ। তিনি কয়রার খবর -কে বলেন, “আমার বয়স ৬৫ বছর। কোনো মামলা বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই পুলিশ আমাকে ও আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমি ঠিকমতো বাড়ি থাকতে পারছি না।”

এদিকে আইনজীবী মোহরী হাসনাত হাসু বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, হাসুর স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা এবং তাঁর সন্তান প্রসবের সময় অত্যন্ত নিকটবর্তী। এ অবস্থায় পুলিশের অনবরত হুমকি ও হয়রানিতে পুরো পরিবারটি গভীর উদ্বেগে রয়েছে।

পুলিশের এই অনৈতিক আচরণ ও ঘুষ বাণিজ্যের ঘটনায় খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এবং সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার বরাবর মৌখিক অভিযোগ জানানো হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। একজন সাধারণ নাগরিককে প্রশাসনিক ভয়ভীতি প্রদর্শন ও উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত এসআই আমির ও এএসআই ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

All rights reserved © meghnapost.com