বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৩ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

হাজীগঞ্জে ঈদকে পুঁজি করে সিএনজি ড্রাইভারদের অতিরিক্তি ভাড়া আদায়॥যানবাহন নৈরাজ্য দেখার কেউ নাই।

মো.মজিবুর রহমান রনি ও মোশারফ হোসেনঃ

চাঁদপুর হাজীগঞ্জে ঈদকে পুঁজি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে আসছে। সিএনজি স্ট্যান্ড গুলোতে ঈদের কয়েক আগে থেকেই এই অব্যবস্থাপনা চলছে। হাজীগঞ্জ বাজারে ব্যাঙের ছাতার মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবৈধ এসব সিএনজি স্ট্যান্ডগুলো থেকে যাতায়াত করতে দিতে হয় অতিরিক্ত ভাড়া। প্রশাসনের নজরদারি না থাকার কারণে সিএনজি চালক ও স্ট্যান্ড সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। কবে নাগাদ শেষ হবে ঈদ কেন্দ্রীক অতিরিক্ত ভাড়া আদায়।
তবে কয়েকটি স্ট্যান্ড ছাড়া আর সবগুলো সিএনজি স্ট্যান্ড গুলোতে অতিরিক্তি ভাড়া না দিলে যাত্রীদের অপমান করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজার থেকে শুরু করে পশ্চিম বাজার মুজিব চত্তর পর্যন্ত ১৫টি সিএনজি স্ট্যান্ড রয়েছে। এসব সিএনজি স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রনে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার সিএনজি চলাচল করে। এসব সিএনজির অধিকাংশই রেজিষ্ট্রেশন না থাকায় রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

জেলার বাণিজ্য নগরী হাজীগঞ্জ বাজারে প্রায় প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষের যাতায়াত হয়ে থাকে। হাজীগঞ্জ বাজার জেলার ত্রিমুখী শহর হলেও সিএনজি স্ট্যান্ডে প্রশাসন কতৃক ভাড়া নির্ধারিত তালিকা না থাকায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় ।

কয়েকজন যাত্রী জানান, এখন যাত্রী বেশি, যানবাহনের সংখ্যা কম। এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন সিএনজি ও অটোরিকশাচালকেরা। হাজীগঞ্জ থেকে চাঁদপুরে যাওয়ার জন্য নির্ধারিত ভাড়া ৪০ টাকা। সেখানে সিএনজি ভাড়া ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত আদায় করে থাকে। যাত্রীরা অসহায় তাই কোন প্রতিবাদ করতে পারে না। যাত্রীদের কাছ থেকে তাঁরা হাতিয়ে নিচ্ছেন দুই-তিন গুণ ভাড়া।

হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজার মুজিব চত্ত্বরের চার পাশে ৩টি সিএনজি স্ট্যান্ড। চাঁদপুর মুখী সিএনজি স্ট্যান্ড এখানে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুন অর্থ আদায় করা হয়। প্রায় সময় এ স্ট্যান্ডে যাত্রীদের লাঞ্চিত করার ঘটনা ঘটে।
মুজিব চত্ত্বরের পূর্বে পাশে রামগঞ্জ মুখী সিএনজি স্ট্যান্ড। এ স্ট্যান্ডে সিএনজি চালকদের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে যাত্রী। নির্ধারিত ভাড়া ৩০ টাকা। বর্তমানে যাত্রীদের কাছ আদায় করা হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
গৌরিপুর বিশ^রোডে কচুয়া মুখী সিএনজি স্ট্যান্ড। এ স্ট্যান্ডে নির্ধারিত ভাড়া ৪০ টাকা। ঈদকে পুঁজি করে আদায় করা হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

শেখ সিটি শপিং কমপ্লেক্সের সামনে কামতা-মুন্সীরহাট, রামচন্দপুর সিএনজি স্ট্যান্ড। এ স্ট্যান্ডে জন প্রতি আদায় নির্ধাতির ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ২০ থেকে ৩০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

বসুন্ধরা হোটেলের সামনে থেকে কাশিমপুর, ডাটরা, দেশগাঁও এবং পালিশারা সিএনজি স্ট্যান্ড। এ স্ট্যান্ডে প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

পপুলার হাসপাতালের সামনে রায়চোঁ বাজার, বড়কুল সিএনজি স্ট্যান্ড। এ স্ট্যান্ডে জন প্রতি অতিরিক্ত ১০ টাকা করে ভাড়ায় আদায় করা হচ্ছে।

ব্যাংক এশিয়ার সামনে বেলচোঁ-সেন্দ্রা সিএনজি স্ট্যান্ড। স্ট্যান্ডে নির্ধারিত ভাড়া ১৫ টাকা ঈদকে পুজি করে আদায় করা হচ্ছে ৩০ টাকা।

স্টেশন রোডে, পিরোজপুর, পাতানিশ সিএনজি স্ট্যান্ড। হাজীগঞ্জ প্লাজা থেকে কলেজ রোড পর্যন্ত চাঁদপুর, মহামায়া, বাকিলা, রামপুর-বলাখাল সিএনজি স্ট্যান্ড, হাজীগঞ্জ ঐতিহাসি বড় সমসজি শাহরাস্তি উপজেলার উয়ারুক, কালিয়াপাড়া, দোয়াভাঙা সিএনজি স্ট্যান্ড, হলুদ পট্টির সামনে মোহাম্মপুর, তারালিয়া, মৈশামুড়া, মালিগাঁও, গন্ধর্ব্যপুর সিএনজি স্ট্যান্ড এবং আমিন রোডে সুহিলপুর, বাড্ডা, বলিয়া, বেলঘর এবং কচুয়া উপজেলারা কাদলা সিএনজি স্ট্যান্ড। এসব সিএনজি স্ট্যান্ডে প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে ঈদকে পুজিঁ করে ৫ থেকে ১০টা পর্যন্ত আদায় করে আসছে।

যাত্রীরা সিএনজি চালক এবং স্ট্যান্ড পরিচালনা সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় । তাই সময়-অসময়ে নিজেদের খেয়াল খুশিমত করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে আসছে।

যাত্রীদের দাবী উপজেলা এবং পৌর প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে স্ট্যান্ডগুলোতে নির্ধারিত হারে ভাড়া আদায়ের তালিকা প্রস্তুত করে দিলে সিএনজি চালকদের অতিরিক্ত ভাড়া হয়রানি থেকে নিস্তার পাওয়া সম্ভব।

হাজীগঞ্জ থানা ট্রাফিক ইনচার্জ মাহফুজ বলেন, বিআরটিএ কতৃপক্ষ এবং উপজেলা প্রশাসন থেকে কোন ধরণের ভাড়া নিধারণ না করে দেওয়ায় চালকরা অতিরিক্ত ভাড়ায় আদায় করতে পারে। নির্ধারিত ভাড়া তালিকা প্রস্তুত করে দিলে এমন অভিযোগে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

All rights reserved © meghnapost.com