বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

হাজীগঞ্জে ফ্রিজ থেকে মাংস আনতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার ॥ ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা দশম শ্রেণি শিক্ষার্থী

গাজী মহিনউদ্দিন, মজিবুর রহমান রনিঃ

হাজীগঞ্জের পূর্ব হাটিলায় ফ্রিজে মাংস রাখতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়ে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হলেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
গর্ভে থাকা সন্তানের পরিচয় চাইতে গিয়ে হুমকি শিকার হয়ে নিরাপত্তাহীনতা ভুগছে ভিকটিমসহ পুরো পরিবার।
ধর্ষককে বাঁচাতে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টায় মেতে উঠেছে এলাকার একটি স্বার্থান্বেষী মহল।

উপজেলার ৮নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের পূর্ব হাটিলা গ্রামের পাটওয়ারীর দিনমজুর জাহাঙ্গীরের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে (১৫) কে একই গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির মৃত মনির হোসেনের ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী সৈকত (১৬) জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে মেয়েটি। মেয়েটি ওই ইউনিয়নের হাটিলা টঙ্গিরপাড় ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ধর্ষক সৈকত একই বিদ্যালয় এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করবে।

সরেজমিনে গিয়ে ভূক্তভোগী দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী’র ভাষ্যমতে জানা যায়, বাড়িতে ফ্রিজ না থাকায় পাশের বাড়িতে ফ্রিজে মাংস রাখে। এ বছরের ৪ জানুয়ারী পূর্ব হাটিলা পাটওয়ারী বাড়ির মৃত মনির হোসেনের ঘরের ফ্রিজে রাখা মাংস আনতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার মেয়েটি। ওই সময় মনির হোসেনের স্ত্রী রহিমা বেগম চট্টগ্রামে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। মায়ের অনুপস্থিতিতে সৈকত মেয়েটিকে বাড়িতে একা পেয়ে মেয়েটিকে ওড়না দিয়ে মুখ পেছিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষক সৈকতের বাড়িটি মাঠের মাঝ খানে গাছ-পালায় আবৃত। আশপাশে কোন লোকজনের সমাগম নেই বললেই চলে।

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে না জানাতে নিষেধ করে। মেয়েটি অসুস্থতা অনুভব করলে তার পরিবার হাজীগঞ্জ বাজারের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ডাক্তার দেখায়। ডাক্তারের পরীক্ষা নিরিক্ষার পর ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বার কথা জানতে পারে তার পরিবার।

বিষয়টি ধর্ষক সৈকতের পরিবারকে জানাতে গেলে অন্তঃসত্ত্বা মেয়েটিকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
উপায়ন্ত না পেয়ে মেয়েটির বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন গত ১৩ জুলাই মঙ্গলবার বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মজুমদারের দারস্থ হয়।

এ খবরটি সৈকতের পরিবার জানার পর তার বড় ভাই মহিন লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে মেয়ের পরিবার এবং ওই বাড়ির লোকজনকে হুমকি ধমকি দিয়ে আসে।

এ দিকে ধর্ষক সৈকতকে বাড়ি থেকে সরিয়ে দিয়ে তার বড় ভাই মহিন বিভিন্ন ভাবে মেয়েটির পরিবারের লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যার দুই পরিবারকে ডাকলে সেখানে উপস্থিত হয়নি সৈকত। বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েটি ও তার পরিবার।

ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মজমুদার বলেন, এ বিষয়ে মেয়ের পরিবার আমার কাছে আসছে। আমি দুই পরিবারকে ডেকেছি। রাত সাড়ে ৯টায় এ বিষয়ে দুই পরিবারের সাথে বসা হবে। তারপর বলা যাবে কি হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

All rights reserved © meghnapost.com