বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৫ অপরাহ্ন
গাজী মহিনউদ্দিন ও মো. মজিবুর রহমান রনিঃ
হাজীগঞ্জ প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে অবসরের পরও দিব্যি বহাল রয়েছেন এক সাবেক কর্মচারী মো. মহসিন। সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অবসরে গিয়েও ৮মাস ধরে তিনি অফিসের যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ করছেন। অফিস কর্মকর্তার যোগসাজশে সাবেক এই কর্মচারী এখনো বহাল তবিয়তে কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় ও ভেটেনারী হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, গরু, ছাগল এবং হাস-মুরগির ঔষধ বিক্রয়ের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মহসিন । তিনি ৮ মার্স পূর্বে অবসরে যান। অবসরে যাওয়ার পরও গত ৮ মাস ধরে তিনি দাপ্তরিক কাজ করছেন।
মহসিন একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হয়ে গরু-ছাগল এবং হাস মুরগির ঔষধ বিক্রয় করছেন। এতে বিক্রয়কৃত ঔষধ তালিকাভূক্ত না করেই নিজের মনগড়া ভাবে এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।
সামান্য বেতনে চাকরি করা মহসিন প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে অতিরিক্ত দামে ঔষধ ও ভ্যাকসিন বিক্রয় করে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়।
তৎকালীন হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদক কর্মকর্তা ডা. জুলফিকার আলীর ছত্রছায়ায় বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়েন।
গ্রামাঞ্চল থেকে ছুটে আসা খামারী ও দরিদ্রদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে ঔষধ ও ভ্যাকসিনের টাকায় সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন। হাজীগঞ্জ পৌরসভার আলীগঞ্জ এলাকায় তিনি বাড়ি করেছেন।
মহসিনের বাড়ির হাজীগঞ্জ উপজেলার ৯নং গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের মালীগাঁও গ্রামের মজুমদার বাড়ির বাসিন্দা। তবে বর্তমান হাজীগঞ্জ পৌরসভায় নিজের এবং পরিবারের আত্মীয় স্বজনের নামে সরকারি ভূমি লীজ এবং মালিকানা সম্পত্তি ক্রয় করেন। তার এক ছেলে ইউরোপে বসবাস করে।
অভিযুক্ত মহসিন বলেন, আমার চাকরি চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। আমি এখন অফিস করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহীন মিয়া বলেন, ৮ মাস পূর্বে অবসরকালীন ছুটিতে চলে গেছে। আমি এ অফিসে যোগদানের পর তার দায়িত্বে আরেকজনকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ তা খতিয়ে দেখা হবে।