বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ন
গাজী মহিনউদ্দিন ও মোশারফ হোসেনঃ
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি মেজর(অবঃ) রাশেদ চৌধুরীর প্রাপ্ত পৈত্রিক সূত্রে বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি’র সাইন বোর্ড সংস্কার করেছে উপজেলা প্রশাসন।
৩১ আগস্ট বুধবার হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সোনাইমুড়ি চৌধুরী বাড়িতে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মেহেদী হাসান মানিকের উপস্থিতিতে পুনরায় সীমানা নির্ধারণ করে এবং নতুন করে সাইন বোর্ড বসানো হয়।
২০১২ সালে ফাঁসির দন্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামী কর্ণেল রাশেদ চৌধুরীর বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণ করে সাইনবোর্ড বসায় প্রশাসন।
দীর্ঘদিন ধরে অপরিত্যক্ত অবস্থায় কারণে সাইনবোর্ডটি নষ্ট হয়ে যায় । এনিয়ে গত ১৭ আগস্ট জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর আবারো সীমানা নির্ধারণ করে খুঁটি বসানো হয়। ওই স্থানে নতুন করে বাঁশের খুটিতে একটি সাইন বোর্ড বসানো হয়েছে।
বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি পরিদর্শন করে সীমান নির্ধারণ এবং সাইনবোর্ড বসানোর কাজটি তদারকি করেন উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি মেহেদী হাসান মানিক।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভূমি অফিসের কাননগো আবুল কাশেম, সার্ভেয়ার মো. কাজল, ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা বিশ^নাথ দাস, ইউনিয়ন ভূমি উপহ-সহকারি কর্মকর্তা শুক্কুর আলম টিটু।
২০১২ সালে ৩ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের নির্দেশে ফাঁসির দন্ডাদেশ প্রাপ্ত কর্ণেল রাশেদ চৌধুরীর স্থাবর অস্থাবর সকল সম্পত্তি চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বিবিধ মোকদ্দমা নং- ২২/২০১৩-১৪ আদেশমূলে সোনাইমুড়ি মৌজার বাড়ি এবং নালে ৩ দাগে ১১৫ শতাংশ সম্পত্তি তপছিলভূক্ত ভূমি সরকারের ১নং খাস খতিয়ানে অর্ন্তভূক্ত করা হয়।
তৎকালিন সময়ে উপজেলা র্নিবাহী কর্মকর্তা হোসনেয়ারা আফরোজ সীমানা নির্ধারণ করে একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুৃ শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন কর্ণেল রাশেদ চৌধুরী । পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে কর্ণেল রাশেদ জাপান, ব্রাজিল এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত ছিল। বর্তমানে এ খুনি যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক রয়েছেন।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সহপরিবারে হত্যার মাস দেড় বছর পূর্বে সোনাইমুড়ি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে ওই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মাস্টারকে সেনা বাহিনীর জিপে করে তুলে নিয়ে হত্যা করে। সে মামলায় ৩ মাস কারাবরণ করে কর্ণেল রাশেদ চৌধুরী। মার্শাল আইনে জেল থেকে বের হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনায় অংশগ্রহণ করে। এরপর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২নং বাসায় সহপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে।
সহকারী কমিশনার ভূমি মেহেদী হাসান মানিক জানান, সরকার ২০১২ সালে দখলে নেয়া সম্পত্তি পর্যবেক্ষণ করে নতুন করে সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। খুনি রাশেদ চৌধুরীর সোনাইমুড়ী মৌজার মোট ১১৫ শতাংশ সম্পত্তি সরকারের দখলে নেয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আহসান হাবীব জানান, রাশেদ চৌধুরী শুধু বঙ্গবন্ধুকেই নয়, আগে তার বাবা আব্দুল লতিফকেও খুন করে। বঙ্গবন্ধু ও তার বাবার খুনিকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবী জানান।