বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ন
জিটিবি নিউজঃ ঢাকার আশুলিয়ায় নরসিংহপুরের সিগমা ফ্যাশনসের শ্রমিকেরা ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন। রোববার সকাল থেকে পাঁচ শতাধিক শ্রমিক কারখানার সামনে ও ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
পুলিশ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সিগমা ফ্যাশসনস বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এ অবস্থায় গতকাল শনিবার ৭০৯ জন শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের নোটিশ কারখানার মূল ফটকে সাঁটিয়ে দেওয়া হয়।
নোটিশে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রভাবে সিগমা ফ্যাশনসের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সব ক্রয়াদেশ বাতিল করা হয়েছে। এ কারণে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এই অবস্থায় কারখানাটি সম্পূর্ণভাবে পরিচালনা করা সম্ভব না হওয়ায় শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হলো।
স্বাধীন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সহ সভাপতি আল-কামরান বলেন, আজ সকাল আটটার দিকে পাঁচ শতাধিক শ্রমিক কারখানার সামনে জড়ো হন। এরপর তাঁরা কারখানার সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে স্থানীয়দের অনুরোধে সড়ক ছেড়ে দিয়ে কয়েকশ শ্রমিক কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন। বাকিরা কারখানার ফটকের সামনে রয়েছেন। একই দাবিতে গতকাল শনিবারও শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেছেন।
কয়েকজন শ্রমিক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা কারখানায় কাজ করছেন। এরপরেও দুর্যোগের সময়ে প্রতিষ্ঠানের একজন সদস্য হিসেবে তাঁদের পাশে না দাঁড়িয়ে বরং তাঁদের ছাঁটাই করে দেওয়া হলো।
এদিকে আশুলিয়ার জামগড়া ও কবীরপুরে আরও তিনটি কারখানার পাঁচ শতাধিক শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে বলে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, কারখানা খোলার খবর পেয়ে ওই তিন কারখানার সব শ্রমিক কর্মস্থলে যান। এ সময় ছাঁটাই করা শ্রমিকদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী লে-অফ শেষ হওয়ার ৪৫ দিন পর শ্রমিকদের ছাঁটাই করতে হবে। সিগমা ফ্যাশনসের শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে এ নিয়ম মানা হয়নি।
এদিকে শিল্প পুলিশের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, আজ সাভার ও আশুলিয়ার বেশ কিছু পোশাক কারখানা খুলেছে। এসব কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিয়েছেন।