বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৬ অপরাহ্ন
রাতের বেলায় গোপনে বিয়ের আয়োজন। বর ও কনেপক্ষের উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও শেষ। খবর পেয়ে বিয়ে বাড়িতে হাজির উপজেলা প্রশাসনের লোকজন। ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বর ও কনেকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। আর গণজমায়েত করে বিয়ের আয়োজনে সহযোগিতার দায়ে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যকে ১০ হাজার টাকার অর্থদণ্ড করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার পাতিলাপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অর্থদণ্ড হওয়া ব্যক্তির নাম জসিম উদ্দিন। তিনি স্থানীয় বরাইদ ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সবচেয়ে জরুরি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা। এ জন্য গণজমায়েত বন্ধের সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে পাতিলাপাড়া গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে সদর উপজেলার মানরা গ্রামের এক তরুণের বিয়ের আয়োজন করা হয়। দুই পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে বিয়েবাড়ি জমজমাট হয়ে ওঠে। এই বিয়ে আয়োজনে সহায়তা করেন ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন। অথচ জনপ্রতিনিধি হিসেবে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করার কথা তাঁর।
খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম পুলিশ নিয়ে বিয়েবাড়িতে যান। বিষয়টি টের পেয়ে বরকে রেখে তাঁর পক্ষের লোকজন পালিয়ে যান। তবে তাঁর আগেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়ে যায়। ইউএনও এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বর ও কনেকে ওই বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ইউপি সদস্যকে ১০ হাজার টাকার অর্থদণ্ড করেন।
ইউএনও আশরাফুল আলম বলেন, করোনা প্রতিরোধে গঠিত ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য। তাঁর দায়িত্ব ছিল গণজমায়েত বন্ধ রাখা। অথচ গণজমায়েত করে বিয়েতে সহযোগিতা করেন তিনি। তাই তাঁকে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া বরের বাড়ি অন্য উপজেলায় হওয়ায় তাঁকে ও কনেকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।