বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় এক ব্যক্তি ও তাঁর মেয়ের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। এর আগে ওই ব্যক্তির ছেলে তৈরি পোশাক কারখানার কর্মী (৩০) মারা গেছেন।
আক্রান্ত ওই ব্যক্তির বয়স ৬০ বছর; মেয়ের বয়স ৩০ বছর। এর আগে ১২ এপ্রিল তাঁর আরেক মেয়ে (৪০) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন। তিনি এখন পটুয়াখালীতে করোনা আইনোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।
এদিকে দুমকির উপজেলার একজন উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তার নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন ‘পজিটিভ’ এসেছে। এ নিয়ে পটুয়াখালী জেলায় ১৩ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমনের তথ্য মিলেছে। বুধবার পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সুত্র জানায়, পটুয়াখালীতে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় ৯ এপ্রিল। জেলার দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ওই যুবকের বয়স (৩০) বছর । তিনি নারায়ণগঞ্জের একটি পোশাক কারখানার কর্মী। করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি নিজ বাড়িতে মারা যান। পরে তাঁর এক বোন (৪০) করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পটুয়াখালীতে করোনা আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। এ অবস্থায় তাঁর বাবা ও আরও এক বোনের নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন ‘পজিটিভ’ এল।
পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, জেলায় মোট ৩০১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এর মধ্যে ১৫৯ জনের নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন এসেছে। মোট ১৩ জনের করোনা ‘পজিটিভ’ এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের সংস্পর্শে যারা এসেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য পটুয়াখালীতে ৫০ শয্যার করোনা আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত রয়েছে। আক্রান্ত ব্যাক্তিদের সংস্পর্শে আসা ব্যাক্তিদের প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানোর ব্যবস্থা হচ্ছে।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম বলেন, সামগ্রিকভাবে দেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পটুয়াখালী জেলা ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে। সবাইকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে, যার যার আবাসস্থলে নিরাপদে অবস্থান করার আহ্বান জানান তিনি।